বয়সকালে বাতের ব্যথাবেদনা হবে না, কোন আসন করবেন? চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।
শরীরচর্চার পরামর্শ যে কোনও বয়সের ব্যক্তিকেই দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সব বয়সেই কি ব্যায়াম করার মতো শারীরিক অবস্থা থাকে? ষাট পেরোলেই কোমর-পা-ঘাড় ও অন্যান্য অস্থিসন্ধির ব্যথা কাবু করে ফেলে অনেককে। অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ-সহ নানাবিধ অসুখে ভোগেন বহু ষাটোর্ধ্ব। এই সব রোগের নিরাময়ে শরীরচর্চা উপকারী হলেও অনেকেরই ক্ষমতা থাকে না তা অভ্যাস করার। ব্যায়ামের সময়ে অতিরিক্ত বা বেকায়দায় চাপ পড়ে গেলেও হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই বয়সকালে এমন ব্যায়াম করতে হবে, যা সহজেই করা যাবে এবং বাতের ব্যথাবেদনাও হবে না। চেয়ার পিজিয়ন পোজ় বা চেয়ার কপোতাসন তেমনই একটি ব্যায়াম।
কী ভাবে করবেন?
১) চেয়ারে পিঠ সোজা করে বসুন। দুই পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। মাথা ও ঘাড় সোজা থাকবে।
২) চেয়ারে হেলান না দিয়ে সোজা হয়ে বসুন। দুই হাত থাকবে কোলের উপরে।
৩) এ বারে বাঁ পা ভাঁজ করে ডান ঊরু বা হাঁটুর উপর রাখতে হবে।
৪) এর পর সামান্য ঝুঁকে বাঁ পায়ের হাঁটু ধরতে হবে। খেয়াল রাখবেন, মেরুদণ্ড যেন বেঁকে না যায়।
৫) এই ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। মনে মনে ১০ গুনে পা নামিয়ে নিতে হবে।
৬) এ বারে একই পদ্ধতিতে অন্য পায়েও করতে হবে আসনটি। এই ভাবে ৩-৫ সেটে আসনটি অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা
বেশি বয়সে আর্থ্রাইটিস ও অন্যান্য কারণে নিতম্ব ও আশপাশের পেশির নমনীয়তা বৃদ্ধিতে আসনটি করতে পারেন।
সায়াটিকার ব্যথা দূর করতে আসনটি করা যেতে পারে।
দিনের অনেকটা সময় ডেস্কে বসে পিঠ ও কোমরের ব্যথায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য উপকারী আসনটি।
গাঁটে গাঁটে ব্যথা ভোগালে আসনটি করা যেতে পারে।
বয়সকালে আসনটি করলে কাফ মাসলের জোর বাড়বে, হাঁটাচলা করতে সমস্যা হবে না।
কারা করবেন না?
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি করা যাবে না।
পিঠে আঘাত থাকলে বা স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে আসনটি করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।