পিঠ-কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে এক বিশেষ আসন। চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।
দিনভর অফিসের চেয়ারে বসে থেকেই কাজ। ফলে পিঠে যন্ত্রণা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয় বরং পিঠে যন্ত্রণার সমস্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যেও। তার অন্যতম কারণ স্কুলের ভারী ব্যাগ বওয়া। ফলে কম বয়সেই নুয়ে পড়ছে পিঠ, নিদারুণ যন্ত্রণা হচ্ছে পিঠে-কোমরে। পড়াশোনার চাপ বাড়ছে। ফলে স্কুলের ব্যাগও দিন দিন ভারী হচ্ছে। স্কুল যাওয়া-আসার পথে সে ব্যাগ ছোটদের কাঁধেই থাকে। দীর্ঘ দিন ধরে ভারী ব্যাগ টানার ফলে স্কুলপড়ুয়ারা ভুগছে পিঠে ব্যথার সমস্যায়। এর থেকে রেহাই পেতে রোজ অভ্যাস করাতে পারেন বিপরীত দণ্ডাসন।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে বজ্রাসনের ভঙ্গিতে ম্যাটের উপর বসুন।
২) শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ধীরে ধীরে মাটিতে শুয়ে পড়ুন।
৩) দুই হাত থাকবে দেহের দু’পাশে।
৪) এ বার হাত দুটি মাথার উপরে নিয়ে যান। হাতের তালু মাটি স্পর্শ করবে।
৫) দুই পা জোড়া করে রাখতে হবে।
৬) এর পর ধীরে ধীরে হাতের তালুতে ভর দিয়ে ঘাড় ও কোমর উপরে তুলতে হবে। শরীরের ভঙ্গিমা হবে ঠিক উল্টোনো ‘ভি’ আকৃতির।
৭) এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
উপকারিতা:
মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে, পেশির জোর বৃদ্ধি করে।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভাল রাখবে এই ব্যায়াম, শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমবে।
আসনটি করলে হজমশক্তির উন্নতি হবে, পেটের যাবতীয় সমস্যা কমবে।
পিঠ-কোমরের মেদ কমাবে, ব্যথাবেদনা থেকে রেহাই দেবে।
মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ কমাতে সাহায্য করবে।
হাত, কাঁধ, কোমর এবং পায়ের পেশির জোর বৃদ্ধি হবে এই আসন অভ্যাসে।
কারা করবেন না?
হাঁটুতে ব্যথা থাকলে এই আসন করবেন না।
গোড়ালিতে চোট-আঘাত লেগে থাকলে এই আসন করা যাবে না।
মেরুদণ্ডে আঘাত থাকলে এই আসন করা যাবে না।
হার্নিয়া বা পেটে অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে আসনটি করা যাবে না।