Multiple Sclerosis Symptoms

নিজেই নিজের শত্রু! শরীরই ভাঙতে থাকে তার কোষ-কলা, বড় ভয়ানক রোগ ‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’

‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’ রোগটি শুনতে যতটা ভয়াবহ মনে হয়, তার লক্ষণগুলি কিন্তু প্রাথমিক পর্যয়ে ততটাই সাধারণ। তাই রোগটি শেষ অবধি কী ধ্বংসলীলা চালাতে চলেছে, তার আঁচও পাওয়া যায় না আগে থেকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১৪:৩২
Share:

‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’ রোগের লক্ষণ কী কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শত্রু বাইরের নয়। ঘরের শত্রু বিভীষণের মতো অন্দরেই তার বাস। শরীরই এক সময়ে শরীরের শত্রু হয়ে ওঠে। নিজেই ধ্বংস করতে থাকে তার কোষ-কলা-অস্থি-মজ্জা। প্রথমটাতে দৃষ্টিশক্তি চলে যায়। তার পর একে একে অনুভূতি, অভিব্যক্তি, প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা। চলচ্ছক্তিহীন মানুষটির শেষ সম্বল স্মৃতিটুকুও হারিয়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে। এ রোগ এমনই ভয়ানক। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এরই নাম ‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’। এটি এক ধরনের ‘অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার’, যেখানে নিজের শরীরই নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে।

Advertisement

‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’ রোগটি শুনতে যতটা ভয়াবহ মনে হয়, তার লক্ষণগুলি কিন্তু প্রাথমিক পর্যয়ে ততটাই সাধারণ। তাই রোগটি শেষ অবধি কী ধ্বংসলীলা চালাতে চলেছে, তার আঁচও পাওয়া যায় না আগে থেকে। মাথাঘোরা, মাঝেমধ্যে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা বা চরম ক্লান্তিকে কে-ই বা আর জটিল রোগের পর্যায়ে ফেলেন! কিন্তু এই লক্ষণগুলিই পরবর্তীতে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে কুরে কুরে খেতে শুরু করে।

দিল্লির এমস ও ম্যাক্স ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস ‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’ রোগটি নিয়ে নানা গবেষণা চালায়। মুম্বইয়ের মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস সোসাইটি অফ ইন্ডিয়াতেও রোগটির চিকিৎসা হয়। যদিও এ রোগ কস্মিনকালেও সারে না। তবুও চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেন রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার।

Advertisement

‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’ রোগটি আসলে কী?

দিল্লি এমসের চিকিৎসকের গবেষণাপত্রে লেখা আছে, রোগটি এক প্রকার অটোইমিউন ডিজ়িজ়। জন্মের পর থেকেই শরীর কোনটা তার নিজের ও কোনটি নয়, সে পার্থক্য বুঝতে শুরু করে। যখই বাইরের কোনও জীবাণু বা পদার্থ শরীরে ঢোকে, সে সচেতন হয়ে যায়। নিজের প্রতিরোধ শক্তিকে জাগিয়ে তুলে তার মোকাবিলা শুরু করে। একে বলে শরীরে রোগ প্রতিরোধী শক্তি বা অনাক্রম্যতা। যখন এই শক্তি বিনষ্ট হয় এবং শরীর ঠাহরই করতে পারে না যে, কোনটি তার নিজেরই অংশ ও কোনটি নয়, তখনই অটোইমিউন রোগ হয়। শরীর তার নিজের কোষগুলিকে নষ্ট করতে শুরু করে। স্নায়ুগুলি একে অপরের মধ্যে সঙ্কেত আদানপ্রদান বন্ধ করে দেয়। মস্তিষ্ক গোটা শরীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে একে একে সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। রোগীর ‘মাল্টিঅর্গ্যান ফেলিয়োর’ হতে থাকে। গোটা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে, স্মৃতিশক্তিও বিলুপ্ত হতে থাকে ধীরে ধীরে। একেই বলেই ‘মাল্টিপল স্‌ক্লেরোসিস’।

লক্ষণ কী কী?

রোগটি হলে প্রথম যে লক্ষণ দেখা দেয় তা হল— দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে শুরু করা।

মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের উপরের আবরণী ‘মায়েলিন’ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে মস্তিষ্ক থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে স্নায়বিক সঙ্কেত পাঠানোর রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে প্রথমে হাত-পা বিকল হতে থাকে। তার পর গোটা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

প্রচণ্ড ক্লান্তি বোধ হয়। পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও শরীর পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে।

শরীরের যে কোনও এক দিক অসাড় হতে থাকে, রোগী হাঁটাচলা করা বা কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

ব্রেন ফগ হতে পারে, এতে চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যেতে থাকে, বিভ্রান্তি বাড়ে, স্মৃতিশক্তিও লোপ পেতে থাকে।

সাধারণত ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এর কোনও চিকিৎসা নেই। কেবল রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চিকিৎসকেরা স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন দেন বা ফিজ়িয়োথেরাপি করানোর পরামর্শ দেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement