‘নোটিফিকেশন অ্যাংজ়াইটি’ কাটানোর উপায় কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
অফিস হোক বা বাড়ি, মাঝরাস্তা হোক বা সিনেমাহল— যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, বার বারই চোখ চলে যায় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। শিশু বা বাড়ির সবচেয়ে প্রৌঢ় সদস্য, সহজেই মোবাইলসর্বস্ব হয়ে উঠছেন। পড়াশোনা যেমন শিকেয় উঠছে, তেমনই আবার কমছে কাজের গতি। মোবাইলে বুঁদ দুনিয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মুখোমুখি আলাপ, আড্ডার অবসর। তার মধ্যেই নতুন এক সমস্যায় বিব্রত কমবেশি সকলেই। তা হল ফোনের ‘নোটিফিকেশন’। ওই শব্দ কানে গেলেই অস্থিরতা বাড়ে। ফোন হাতে না নেওয়া অবধি স্বস্তি নেই। দরকারি হোক হা অদরকারি, নোটিফিকেশনে ঠিক এসেছে, তা দেখতেই হবে। না হলেই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার পারদ চড়বে। মনোবিদেরা এই নেশারই নাম দিয়েছেন ‘নোটিফিকেশন অ্যাংজ়াইটি’।
মোবাইল এখন আর কেবল নেশা নয়, অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, আর পাঁচজনের সঙ্গে জুড়ে থাকার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল। অনেকেই মনে করছেন, একটি মেসেজ না দেখলে বা সমাজমাধ্যমে উত্তরটা সঠিক সময়ে না দিলেই বন্ধুবিচ্ছেদ ঘটবে। ভার্চুয়াল জগতে সম্পর্ক গড়ে তোলার যে এই প্রয়াস, সেটিই হয়ে উঠছে উদ্বেগের মূল কারণ। তাই নোটিফিকেশনের শব্দ কানে গেলেই, মনের অস্থিরতা বাড়ছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে কেবল মানসিক দৃঢ়তারই প্রয়োজন। কোনও চিকিৎসা সেখানে কাজে আসবে না।
‘নোটিফিকেশন অ্যাংজ়াইটি’ কাটাতে গেলে প্রথম যা করতে হবে সেটি হল পুশ নোটিফিকেশনস বন্ধ করে রাখা। ভেবে দেখুন তো, কিছু ক্ষণ পর পরই আপনার মোবাইলে কত অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন আসতে থাকে! আর তা খেয়াল করতে বারে বারেই চোখ রাখতে হয় স্ক্রিনে। এতে অহেতুক সময় নষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ত, দিনের একটি সময় নির্দিষ্ট করুন যখন এক বারে সমস্ত মেসেজ চেক করবেন। ওই সময়টাই কেবল ফোনের পর্দায় চোখ রাখুন। বাকি সময়টাতে যতই মন আনচান করুক না কেন, দরকার ছাড়া ফোনের দিকে দেখবেনই না।
পুশ নোটিফিকেশনস বন্ধ করার পর এ বার আপনার স্মার্টফোনে থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলি মুছে দিন। দেখবেন, স্মার্টফোনের মেমরিও অনেকটাই খালি হয়ে গিয়েছে। আর অবাঞ্ছিত অ্যাপগুলি থেকেও কোনও নোটিফিকেশন আসছে না।
মোবাইল না থাকলে কোন কাজটি করতে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে? নিজেকে প্রশ্ন করুন। সেটা বই পড়া হতে পারে, বাগান করা, ছবি আঁকা, গান শোনা বন্ধুবান্ধব বা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলা, আড্ডা দেওয়া, রান্না করা— যা খুশি হতে পারে। সেই কাজেই মন দিন।
সমাজমাধ্যমে একটি শব্দ খুব জনপ্রিয় হয়েছে এখন, সেটি হল ফিয়ার অব মিসিং আউট (এফওএমও)। বাইরের দুনিয়ায় কী ঘটছে, সেটা সঙ্গে সঙ্গে না জানলে পিছিয়ে যেতে হবে। এমনটা কিন্তু একেবারেই জরুরি নয়। এফওএমও-র ‘ভয়ে’ সারা ক্ষণ সমাজমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো বা সমস্ত নোটিফিকেশন বার বার দেখার অভ্যাস বন্ধ করতে হবে।
রাতে শোয়ার আগে ফোন বালিশের পাশে রাখবেন না। কাছাকাছি যেন না থাকে। স্মার্টফোনের বদলে ঘড়িতে অ্যালার্ম সেট করুন। এতে স্মার্টফোনে নোটিফিকেশন এলে সহজেই হাত বাড়িয়ে তা দেখা যায়। ফলে ঘুমের দফারফা হয়। ঘড়িতে অ্যালার্ম দিলে অন্তত ওই নোটিফিকেশনগুলির দাপট থেকে বাঁচবেন। বার বার ফোন ঘাঁটতেও হবে না।