ঘুমের আগে কোন আলো জ্বালালে ভাল? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কেবল বিশ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্নের জন্যও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম অপরিহার্য। ঘুমের মান ভাল না হলে হার্ট, স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক, লিভার, চোখ, কিডনি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। তাই স্বাস্থ্যরক্ষার যাত্রায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ঘুম। কিন্তু ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য চারপাশে নানা ধরনের জিনিস থাকে। সাম্প্রতিক যুগে তার সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তা সে ঘরের আলো হোক, বা মোবাইল-ল্যাপটপ।
চেন্নাই নিবাসী ঘুমের অসুখ চিকিৎসক নাগরাজন রামকৃষ্ণন একটি পডকাস্টে ঘুম বিষয়ক নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন। নিজের রোগীদের ক্ষেত্রে ভাল ঘুমের জন্য তিনি কী কী পরামর্শ দেন, তা জিজ্ঞাসা করা হলে চিকিৎসক বলেন, ‘‘বিদেশে ৭টার মধ্যে নৈশভোজ সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। আমিও বলি, ৮টার বেশি দেরি যেন না হয়। কিন্তু জানি, এ দেশে তার অন্যথাই বেশি হবে। কিন্তু ৮টার মধ্যে খাবার খেয়ে নেওয়া উচিত। আর তার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর ঘুমোনো উচিত। তা ছাড়াও রাতের খাবার খাওয়ার পরই আমি আলো কমিয়ে ফেলার পরামর্শ দিই। যাতে শরীর ধীরে ধীরে ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। তার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল, যে যে গ্যাজেট থেকে ব্লু লাইট বিচ্ছুরিত হয়, সেগুলি থেকে দূরে থাকা। ঘুমের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে থেকে ফোন, ল্যাপটপ, ইত্যাদি চোখের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত।’’
রাতে আলোয় বেশি ক্ষণ তাকালে দেহের ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ (ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার জন্য দেহের নিজস্ব ‘ঘড়ি’) নষ্ট হয়। তার ফলে হৃৎপিণ্ডের উপরেও ক্রমাগত চাপ তৈরি হতে থাকে। মস্তিষ্ক আলোর সংস্পর্শে রাতকে দিন বলেই মনে করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়, যা ঘুমের জন্য জরুরি। তাই শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে এই সব ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
কিন্তু কোন রঙের আলো বেশি ব্যবহার করা উচিত ঘরে? সাদা না হলুদ, এই নিয়ে নানা রকমের ধন্দ রয়েছে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, হলুদ আলো সাদা আলোর তুলনায় কম উজ্জ্বল, তাই সেটি ব্যবহার করাই উচিত। আগেকার দিনে হলুদ আলোরই বেশি প্রভাব ছিল। কিন্তু রুচির বদলের সঙ্গে সঙ্গে সাদা ধবধবে টিউব লাইটের রমরমা বেড়েছে। অথচ নান্দনিকতার দিক থেকেও সাদার তুলনায় হলুদের চাহিদা বেশি। তাই ঘুমের আগে ঘরে হলুদ আলো জ্বালানো উচিত। সাদা নয়। রাতে উজ্জ্বল আলোয় ঘুমোলে মস্তিষ্ক সেই সময়টিকে দিন বলেই মনে করে। তার ফলে দেহে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। তার ফলে উদ্বেগ এবং অবসাদ আরও বেশি বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া ঘুমের সময়ে যে কোনও আলোই মাথার পিছনে থাকাই ভাল, যাতে সরাসরি তা চোখে না পড়ে।