Post-Meal Walking Benefits

খাওয়ার পরই শুয়ে পড়েন? মধুমেহ রোগের জন্য বিপজ্জনক এই অভ্যাস! কী ভাবে সুস্থ থাকবেন ডায়াবেটিকেরা

ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য খাওয়ার পর বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস বিশেষ ভাবে অস্বাস্থ্যকর। মধুমেহ চিকিৎসক আশিস মিত্র জানাচ্ছেন, খাওয়ার পরে কোন ডায়াবেটিক কী ভাবে সক্রিয় থাকবেন, কী করলে বিপদের ঝুঁকি থাকবে না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৫:৩১
Share:

সুগারের রোগীরা কী ভাবে সুস্থ থাকবেন খাওয়ার পর? ছবি: সংগৃহীত।

রাতের খাবার খেয়েই সোফায় বসে পড়েন বা দুপুরে ভাতঘুমের অভ্যাস রয়েছে? রোজের এই অভ্যাসই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে পাচনক্রিয়ার গতি একেবারে শ্লথ হয়ে যায়। আর এর ফলে খাবার থেকে গ্লুকোজ় দ্রুত রক্তপ্রবাহে মেশে। আর ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায় সুগারের মাত্রা। ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য এই অভ্যাস বিশেষ ভাবে অস্বাস্থ্যকর। তবে রক্তে শর্করার মাত্রাবৃদ্ধি ছাড়াও বদহজম, বুকজ্বালা এবং দীর্ঘ মেয়াদে ওজনবৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসের ছোট্ট বদলই রক্তে শর্করার মাত্রার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। খাওয়ার পর সক্রিয় থাকলে পেশিগুলি রক্ত থেকে গ্লুকোজ় টেনে নিয়ে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে রক্তে অতিরিক্ত শর্করা জমে থাকার সম্ভাবনা কমে।

Advertisement

কিন্তু ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকা নিয়েও সতর্কতা জরুরি। কারণ, কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যায়াম বা সক্রিয়তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। মধুমেহ চিকিৎসক আশিস মিত্র জানাচ্ছেন, খাওয়ার পরে কোন ডায়াবেটিক কী ভাবে সক্রিয় থাকবেন, কী করলে বিপদের ঝুঁকি থাকবে না।

ডায়াবিটিসের রোগীরা কী ভাবে সুস্থ থাকবেন? ছবি: সংগৃহীত

সারা দিন বসে আড্ডা না দিয়ে একটু হাঁটা, বাজারে যাওয়া— এই ছোট ছোট কাজগুলিই শরীরে গ্লুকোজ় ব্যবহার বাড়ায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তা ছাড়া প্রতি বারই খাওয়ার পরে হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। মাথায় রাখতে হবে, একটানা বসে থাকলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে রাতের খাবার খাওয়ার পরে দীর্ঘ ক্ষণ বসে বসে টিভি দেখা বা মোবাইল স্ক্রল করার বদলে মাঝে মধ্যে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করলেও উপকার মিলতে পারে। খাওয়ার পরে ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেও শরীর হালকা লাগে এবং ঘুমও ভাল হয়। চিকিৎসকের কথায়, ‘‘যে কোনও খাবার খাওয়ার পর ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা উচিত। কিন্তু রাতের বেলা এই নিয়মটি বেশি করা মানা উচিত। বিশেষ করে যাঁদের ফাস্টিং সুগার বেশি, তাঁদের জন্য রাতের এই নিয়ম অবশ্য পালন করা উচিত। সাড়ে ৭টা-৮টার মধ্যে খেয়েদেয়ে হাঁটা উচিত।’’

Advertisement

প্রতি বার খাবার খাওয়ার পর হাঁটতে হবে। ছবি: সংগৃহীত

তবে এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন কেন?

চিকিৎসক জানাচ্ছেন, অনেকেই বেশি সক্রিয় থাকতে গিয়ে খাবার খাওয়ার পর হালকা ব্যায়াম করেন। কিন্তু তা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। ডায়াবেটিকদের দিনে দু’বার শারীরচর্চা করতে বলা হয়। সকালে চা খেয়ে এবং বিকেল নাগাদ। কিন্তু খাওয়ার পর কোনও ভাবেই ব্যায়াম করতে নেই। কারণ, সুগারের রোগীদের মধ্যে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’-এর ঝুঁকি থেকে যায়। আর খাবার খাওয়ার পর ব্যায়াম করলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসক বলছেন, ‘‘খাওয়ার পর হজমপ্রক্রিয়া চালু হয় বলে অন্ত্রে রক্তের প্রবাহের গতি খানিকটা বেড়ে যায়। তাই সেই সময়ে হার্টকেও একটু বেশি সক্রিয় হতে হয়, যাতে রক্তের চলাচল সুষ্ঠু ভাবে হতে পারে। তখন যদি কেউ ব্যায়াম করেন, তখন হার্টে বেশি চাপ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই কখনওই খাওয়ার পর ব্যায়াম করা উচিত নয়।’’

তা ছাড়া যাঁরা টাইপ-১ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত বা ইনসুলিন নেন, তাঁদের জন্য এই নিয়ম পালনে বিশেষ নজরদারি দরকার। খাওয়ার পর বা অন্য সময়েও অতিরিক্ত ব্যায়াম করা উচিত নয় তাঁদের। কারণ, তাতে হঠাৎ সুগারের মাত্রা অনেকটা নেমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই ব্যায়াম করার আগে প্রতি বার সুগার মেপে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যাতে বোঝা যায়, কতখানি ব্যায়াম করা উচিত বা অনুচিত। আর যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি ওঠানামা করে, তাঁদের জন্যও চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ এবং নৈশভোজের পর ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement