Swimming Chlorine Risks

সাঁতারের পর সারা গায়ে ক্লোরিন লেগে! ত্বক ও চুলের মারাত্মক ক্ষতির আগে অনুসরণ করুন ৭ পন্থা

পুলের জল পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ক্লোরিনযুক্ত জলে থাকলে ত্বক, চুল এবং সাঁতারের পোশাকের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই শরীর থেকে সম্পূর্ণ রূপে ক্লোরিন বার করে ফেলতে হবে সাঁতারের পরেই। মেনে চলতে হবে কয়েকটি নিয়ম।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৪:৩৫
Share:

ক্লোরিনযুক্ত জলে সাঁতার কাটার প্রভাব। ছবি: সংগৃহীত।

গ্রীষ্মে ফের সুইমিং পুলগুলিতে ভিড় বেড়েছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত জলে নামার ধুম। এই সময়ে সাঁতার কাটলে শরীর নানা ভাবে উপকৃত হয়। কিন্তু ফিটনেসের এই যাত্রায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় ক্লোরিন মেশানো জল। ক্লোরিনের সংস্পর্শে চুল এবং ত্বকে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে পোড়া ভাব এমন ভাবে বাড়তে থাকে যে, শেষমেশ সাঁতার কাটার রুটিনই ত্যাগ করতে হয়। কিন্তু সাঁতারের মতো উপকারী ব্যায়াম এবং ক্রীড়া কমই রয়েছে। কী করলে দু’দিকই রক্ষা করা সম্ভব হবে?

Advertisement

পুলের জল পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। ব্যাক্টেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে ক্লোরিন। তবে দীর্ঘক্ষণ ক্লোরিনযুক্ত জলে থাকলে ত্বক, চুল এবং সাঁতারের পোশাকের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই শরীর থেকে সম্পূর্ণ রূপে ক্লোরিন বার করে ফেলতে হবে সাঁতারের পরেই। মেনে চলতে হবে কয়েকটি নিয়ম।

ক্লোরিনের সংস্পর্শে চুল এবং ত্বকে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। ছবি: সংগৃহীত

১. সাধারণ জলে স্নান: পুল থেকে বেরিয়েই সাধারণ জলে স্নান করে ফেলতে হবে। পেশাদারদের মতে, সাঁতার কাটার পরে যত দ্রুত সম্ভব গোটা শরীর জল দিয়ে ধুয়ে নিলে ত্বকে লেগে থাকা ক্লোরিন অনেকটাই বেরিয়ে যায়। অনেকে আবার পুলে নামার আগেও শরীর ভিজিয়ে নেন। এতে ত্বক ও চুল তুলনায় কম ক্লোরিন শোষণ করতে পারে।

Advertisement

২. সাবান দিয়ে ধোয়া: অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ত্বককে আরও শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই পেশাদারদের মতে, সাঁতারের পরে ময়েশ্চারাইজ়িং উপাদানযুক্ত মৃদু ক্লিনজ়ার ব্যবহার করাই ভাল। সারা গায়ে সাবান মেখে স্নান করতে হবে।

৩. শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়া: ক্লোরিন চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিতে পারে। ফলে চুল রুক্ষ হয়ে যাবে ধীরে ধীরে। তাই সাঁতারের পরে ভাল ভাবে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন পেশাদারেরা। নিয়মিত সাঁতার কাটলে সপ্তাহে এক বার কন্ডিশনিং মাস্কও ব্যবহার করা যেতে পারে। কেউ আবার ক্লোরিন-রিমুভাল বিশেষ শ্যাম্পুও ব্যবহার করেন।

৪. সাঁতারের পোশাক ধোয়া: অনেকেই ভেজা সুইমস্যুট ব্যাগে ভরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখেন। এতে ক্লোরিনের গন্ধ আরও বেশি থেকে যেতে পারে এবং কাপড় দ্রুত নষ্টও হতে পারে। পেশাদারদের মতে, সাঁতারের পরেই ঠান্ডা জলে পোশাক ধুয়ে নেওয়া ভাল। মৃদু সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে খুব গরম জল ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

ক্লোরিন দূর করতে কী কী করবেন? ছবি: সংগৃহীত

৫. ময়েশ্চারাইজ়ার মাখা: সাঁতারের পরে ত্বক অনেক সময়ে রুক্ষ বা শুষ্ক লাগে। তাই স্নানের পরে ময়েশ্চারাইজ়ার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা কিছুটা বজায় রাখা যায়। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি ভীষণ জরুরি।

৬. নারকেল তেল মাখা: জলে নামার আগে কেউ কেউ নারকেল তেল ব্যবহার করেন, যাতে ক্লোরিন গায়ে তেমন ভাবে বসতে না পারে। তা ছাড়া ক্লোরিন থেকে দূরে থাকতে সাঁতারের আগে চুল বেঁধে ক্যাপ পরার চলও রয়েছে। এই নিয়মগুলি মেনে চললে অনেকটাই উপকার মিলতে পারে।

৭. ঘরোয়া রিমুভার ব্যবহার: বাজারে নানা ধরনের ক্লোরিন রিমুভার পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করে ত্বক থেকে ক্লোরিন দূর করা যায়। তবে আপনি যদি প্রাকৃতিক রিমুভারের উপর ভরসা রাখতে চান, তার উপায়ও রয়েছে। ঘরোয়া কয়েকটি উপাদান দিয়ে এই রিমুভার বানিয়ে ফেলতে হবে। ১ চা চামচ অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের (ভিটামিন সি) পাউডার ১ কাপ পরিশুদ্ধ জলে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন। সাঁতার থেকে উঠেই স্প্রে করে নিতে হবে সারা গায়ে। তার পর হাত দিয়ে সারা শরীরে আলতো করে ঘষে নিন মিশ্রণটি। শেষে স্বাভাবিক নিয়ম মেনে স্নান করে নিন। জলের বদলে বডি ওয়াশ (তরল সাবান) বা শ্যাম্পুতেও অ্যাসকরবিক অ্যাসিড মিশিয়ে রাখতে পারেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement