হাওড়ার সেই ‘ভাইরাল বাড়ি’র মালিক তথা তৃণমূল নেতা শমিম আহমেদ ওরফে বড়ে গ্রেফতার হলেন। —ফাইল চিত্র।
সপ্তাহ দুই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চলেছে। শেষমেশ হাওড়ার পলাতক তৃণমূল নেতাকে পাওয়া গেল সুদূর মহারাষ্ট্রে। দুই শাগরেদের সঙ্গে মুম্বই থেকে পাকড়াও হলেন শমিম আহমেদ ওরফে বড়ে। ভোট-পরবর্তী হিংসা-সহ নানা মামলায় জড়িত তিনি।
কিছু দিন আগে বড়ের তিনতলা বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। তার পর যে ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম), তাতে চোখ কপালে ওঠে অনেকের। দেখা যায় তিনতলা থেকে দোতলা নামার জন্য একটি গুপ্ত সিঁড়ি ব্যবহার করতেন বড়ে। সেই দোতলায় যে ক’টি ঘর রয়েছে, তাতে বিলাসব্যসনের প্রভূত উপাদান রয়েছে। তিনতলার ঘরগুলিতে সাধারণ সব আসবাবপত্র। কিন্তু দোতলায় দামি জিনিসপত্রে ঠাসা। বাড়িমালিক বড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এবং তাঁর দলবল বিধানসভা ভোটের পর শিবপুর থানা এলাকায় বোমাবাজি করেছেন। আগেও নানা অনৈতিক ঘটনায় তৃণমূলের এই নেতার নাম জড়িয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, বড়ের মদত এবং প্রশ্রয়ে পদ্মশিবিরের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ করেন বিজেপি নেতৃত্ব।
ভোট-পরবর্তী অশান্তির ঘটনায় বড়ের পরিচিত কয়েক জনকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু ওই তৃণমূল নেতার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই গত ৯ মে তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা। খোঁজ পাওয়া যায়নি তৃণমূলের বড়ের।
পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মুম্বই থেকে বড়ে এবং তার দুই ‘সহযোগী’ জাভেদ আখতার এবং ক্রান্তিকে ধরা হয়েছে। মুম্বই অপরাধদমন শাখা এবং হাওড়া সিটি পুলিশের দলের যৌথ প্রচেষ্টায় ধরা পড়েন তিন জন। পুলিশ এ-ও জানিয়েছে, ভোটের ফলঘোষণার পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তার পর থেকে তাঁরা ফেরার ছিলেন। শিবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতে বড়ের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, বড়ের বাসভবন মধ্য হাওড়ার শিবপুর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের ছত্রচ্ছায়ায় তাঁর বাড়বাড়ন্ত। বছর তিনেক আগে রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বড়ে।