হাঁচলে নাক থেকে বেরোচ্ছে পোকা, কী রোগ হয়েছে মহিলার? ছবি: ফ্রিপিক।
হাঁচার সঙ্গে সঙ্গেই নাক দিয়ে বেরিয়ে আসছে জ্যান্ত পোকা। কখনও বেরোচ্ছে পোকার লার্ভা। তা দেখেই আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হয়েছিল মহিলার। নাকের ভিতর অসহ্য যন্ত্রণা ও শয়ে শয়ে পোকার লার্ভা নিয়ে যখন চিকিৎসকের কাছে যান, জানা যায় তিনি মায়াসিস নামে এক বিরল অবস্থার শিকার। এ ক্ষেত্রে মাছি বা অন্য পতঙ্গের ডিম বা লার্ভা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তমাংসের মধ্যেই তাদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হয়। এ ক্ষেত্রে পতঙ্গ তার জীবনচক্র মানুষের শরীরের ভিতর সম্পূর্ণ করে ঠিকই, কিন্তু সেই বিষক্রিয়ায় মানুষের প্রাণ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।
ঘটনাটি গ্রিসের। ৫৮ বছর বয়সি এক মহিলা মায়াসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনি সাইনাসে আক্রান্ত। কারণ নাকের ভিতরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও চুলকানি হত তাঁর। সেই সঙ্গে মাথায় যন্ত্রণা শুরু হত। পরে দেখা যায়, হাঁচির সঙ্গে শ্লেষ্মা ও পোকার লার্ভা বেরিয়ে আসছে নাক থেকে। কখনও জীবন্ত পোকাও বেরোচ্ছে।
কী এই মায়াসিস?
মহিলার শরীরে যে পতঙ্গ ঢুকেছিল সেটি শিপ বট ফ্লাই। ভেড়া ও ছাগলের শরীরে জন্মায় এমন পতঙ্গ। মানুষের সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। চিকিৎসকেরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলে এবং পোকার ডিম বা লার্ভা মিশে আছে এমন খাবার, আধসেদ্ধ মাংস খেলে তা থেকে শরীরে ঢুকে যেতে পারে। আবার অনেক সময়ে ক্ষতস্থান দিয়েও পোকার ডিম বা লার্ভা ঢুকে যেতে পারে শরীরে। আক্রান্ত মহিলা যেখানে থাকতেন সেখানে ভেড়ার খামার ছিল। ফলে তিনি সংক্রমিত হয়ে পড়েন বলে ধরা হয়। পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন যাঁরা, তাঁদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
পোকার ডিম বা লার্ভা শরীরে ঢুকলে তা রক্ত বা প্লাজ়মা বাহিত হয়ে কোষে গিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। ধীরে ধীরে সেখানেই পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। সেটি শরীরের যে কোনও অঙ্গ হতে পারে, যেমন নাক, চোখের কোণ, মুখগহ্বরের লালা, অন্ত্র বা ত্বক। সে ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানটি ফুলে ওঠে, সেখানে ক্ষত তৈরি হয়, পুঁজ বা ঘা হয়ে যায় এবং ত্বকের নীচে অনেক সময়েই পোকার নড়াচড়া অনুভব করা যায়।
চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে, গ্রিসের মহিলার সাইনাসে যে পোকাগুলি ছিল সেগুলি পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে শুরু করেছিল। তাই হাঁচির সঙ্গে সেগুলি বেরিয়ে আসছিল নাক দিয়ে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মহিলার নাক ও সাইনাস থেকে মোট ১০টি জীবন্ত লার্ভা এবং একটি পিউপা বার হয়। বকিগুলির ভিতরেই মৃত্যু হয়।
পরজীবীরা শরীরের ভিতরে যে কোনও অবস্থায় ও তাপমাত্রায় মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক সময় তাদের অস্তিত্ব বোঝা যায় বহু সময় পরে। সে ক্ষেত্রে আক্রান্তের প্রাণসংশয়ও হতে পারে।