Keratosis-Pilaris Disease

নরম ও মসৃণ ত্বকের আড়ালেও লুকিয়ে আছে রোগ? কেরাটোসিস-পিলারিসে ভুগেছেন ইয়ামি, কী এই অসুখ?

ইয়ামি গৌতমের সৌন্দর্য ও মসৃণ ত্বকের প্রশংসা সর্বত্র। অথচ ত্বকেরই এক গুরুতর অসুখে ভুগেছেন অভিনেত্রী। নিজেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় তিনি কেরাটোসিস-পিলারিসে আক্রান্ত ছিলেন। কী এই অসুখ?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১১
Share:

কেরাটোসিস-পিলারিসে আক্রান্ত ইয়ামি, কী এই রোগ? ছবি: সংগৃহীত।

ইয়ামি গৌতমের মিষ্টি মুখের জাদুতে মুগ্ধ অনুরাগীরা। তাঁর সৌন্দর্য ও মসৃণ ত্বক সব সময়েই প্রশংসা পায়। বয়সের ছাপ সে ভাবে চোখে পড়ে না। বরং ইয়ামি যেন চির তরুণী।তাঁর এমন রূপ, গালে এমন গোলাপি আভার নেপথ্যে কোন ধরনের রূপচর্চার কৌশল রয়েছে, তা নিজেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইয়ামি। তবে এ-ও জানিয়েছেন, একটা সময়ে তাঁর ত্বক এমন সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে কেরাটোসিস-পিলারিস নামে ত্বকের এক গুরুতর সমস্যায় ভুগেছিলেন তিনি। সারা শরীরে ত্বকে র‌্যাশ বেরিয়ে গিয়েছিল তাঁর। তবে তা তিনি গোপনও করেননি। তেমন অবস্থাতেও ফটোশুট করেছিলেন।

Advertisement

কেরাটোসিস পিলারিস কী?

ইয়ামি শুধু নন, অনেক মহিলাই ভোগেন ত্বকের এই সমস্যায়। কেরাটোসিস-পিলারিস রোগটি অল্প চেনা। অনেকেই নাম শোনেননি। এর লক্ষণও অজানা। রোগটিকে অনেকে বলেন ‘চিকেন স্কিন’। কারণ ত্বক জুড়েই লালচে ছোট ছোট দানা তৈরি হয় এ রোগে। চামড়া খসখসে হয়ে যায়। লালচে ছোপ পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে আবার ছোট দানাগুলি ফুলে উঠে লালচে ফোস্কার মতো তৈরি হয়। হাত, বাহুমূল, গলা-বুক ও নিতম্বে এমন ছোট ছোট লাল ফুস্কুড়ি বা ফোস্কার মতো হতে পারে।

Advertisement

কেরাটোসিস-পিলারিসে সারা ত্বক ভরে যায় ছোট ছোট লালচে-কালো গুটিতে। ছবি: ফ্রিপিক।

কেরাটোসিস-পিলারিস ছোঁয়াচে অসুখ নয়। ত্বকের মারাত্মক কোনও সংক্রমণও নয়। ত্বকের প্রোটিন কেরাটিনের আধিক্য হলে, তখন মৃতকোষ জমতে থাকে ত্বকের উপরের স্তরে। এতে রোমকূমের মুখ বন্ধ হয়ে গিয়ে সেখানে ধুলোময়লা, মৃতকোষ জমে ফুস্কুড়ির মতো হয়। সেগুলি সারা ত্বকে ছড়িয়ে গিয়ে লালচে র‌্যাশ তৈরি করে। অনেক সময়ে চামড়া খসখসে হয়ে মাছের আঁশের মতোও হয়ে যেতে পারে।

কাদের বেশি হয়?

বয়ঃসন্ধিকালে ত্বকের এই সমস্যা অনেকেরই হয়। হরমোনের গোলমাল হলে কেরাটোসিস হতে পারে। ত্বক যাঁদের অতিরিক্ত শুষ্ক, অথবা এগ্‌জ়িমা বা কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের সমস্যা আছে, তাঁদের এই রোগটি হতে পারে। আবার অ্যালার্জির সমস্যা থাকলেও কেরাটোসিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

সারবে কী উপায়ে?

রোগ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে তখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। না হলে ঘরোয়া উপাচারেই এর সমাধান হতে পারে। যেমন নারকেল তেল মাখলে ত্বকের ছোট ছোট লালচে দানা বা র‌্যাশ কমে যেতে পারে। নারকেল তেলে রয়েছে লরিক অ্যাসিড, যা কেরাটিন জমতে বাধা দেয় এবং প্রদাহ কমায়। স্নানের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই নারকেল তেল ভাল করে মালিশ করতে হবে।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ত্বকের এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। এতে থাকা ম্যালিক অ্যাসিড ত্বকের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। জল এবং ভিনিগার সমপরিমাণে মিশিয়ে একটি তুলোর সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে মিনিট দশেক পরে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিতে হবে। তবে ত্বক খুব সংবেদনশীল হলে ভিনিগার ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২ চামচ চিনির সঙ্গে ১ চামচ মধু বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে হালকা করে আক্রান্ত জায়গায় মালিশ করতে হবে। তার পর ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে নিতে হবে। এতেও উপকার পেতে পারেন।

আক্রান্ত স্থানে টক দই লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড কেরাটিনের আধিক্য কমিয়ে দেবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement