ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
সব মানুষই জীবনে উন্নতি করতে চান। শুধু নিজেরই নয়, একই সঙ্গে চান তাঁর পরিবারের সকলের সুস্থতা, সমৃদ্ধি। এই কামনায় বিশেষ ভাবে সাহায্য করে থাকে বাস্তুশাস্ত্র। বাস্তুশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হল ফেং শুই। এই প্রাচীন পদ্ধতির অন্যতম উপকরণ হল উইন্ডচাইম। এটি বাড়িতে শান্তির আবহ তৈরি করে এবং নেতিবাচক স্পন্দন দূর করে। তবে বাড়িতে যেমন-তেমন ভাবে উইন্ডচাইম ঝোলালে কিন্তু হবে না, মানতে হবে বিশেষ কিছু নিয়ম। তবেই শুভ শক্তির সঞ্চার ঘটবে।
বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, দরজা, জানালা এবং বারান্দার মতো জায়গা, যেখানে স্বাভাবিক ভাবে বাতাস চলাচল করে, সেখানে উইন্ডচাইম ঝোলানো উচিত। এর ফলে সব সময় একটি মৃদু শব্দ তৈরি হয়, যা শুভ শক্তিকে আকর্ষণ করে। কিন্তু সরাসরি দরজার উপরে ঝোলানো উচিত নয়, বরং পাশে ঝোলানোই ভাল। বাস্তুবিদদের মতে, উত্তর, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাতব উইন্ডচাইম রাখলে আর্থিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। আবার, পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকের জন্য কাঠ বা বাঁশের উইন্ডচাইম বেশি উপযোগী, এর ফলে পরিবারের সদস্যদের অসুখ-বিসুখে ভোগার আশঙ্কা কমে।
বাস্তুমতে, সঠিক উপাদানে তৈরি উইন্ডচাইম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কোনটি আনবেন তা নির্ভর করছে আপনার মনোস্কামনার উপর। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির উপস্থিতি টের পেলে ধাতব উইন্ডচাইম আনুন। বাড়ির সদস্যদের মধ্যে বনিবনার অভাব দেখা গেলে বা আত্মবিশ্বাসের অভাব ঘটলে, সে সমস্যার সমাধান করবে বাঁশ বা কাঠের উইন্ডচাইম। সেরামিক বা ক্রিস্টালের তৈরি উইন্ডচাইম মানুষকে সংবেদনশীল করে তোলে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, তিনটি, ছ’টি বা নয়টি নলযুক্ত উইন্ডচাইম বাড়িতে থাকলে তা সৌভাগ্য ও আর্থিক উন্নতিতে সহায়ক হয়। এই ছোট ছোট দণ্ডগুচ্ছ থেকে সৃষ্ট সুর মানুষের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বাস্তুবিদেরা জানাচ্ছেন, যেখানে বসে খাওয়াদাওয়া করা হয় বা অফিস সংক্রান্ত কাজকর্ম সারেন, সেখানে উইন্ডচাইম ঝোলালে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবার, যাতায়াত করার সময় উইন্ডচাইমটি বার বার মাথায় ঠেকতে পারে, এমন জায়গায় ঝোলাতেও নিষেধ করা হয়ে থাকে। এর ফলে শুভ শক্তি বাধাপ্রাপ্ত হয়। শোয়ার ঘরে ঝোলালেও জানলার কাছে রাখা উচিত, যেখানে হাওয়ার চলাচল রয়েছে।