গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হান্টা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। আর্জেন্তিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে কাবো ভার্দে যাওয়া এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরীতে দু’জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। জানা গিয়েছে, এ বার ওই ভাইরাসে তাঁরও আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও রবিবার স্পেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে থাকা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই ভারতীয় নাগরিক উপসর্গহীন এবং সুস্থ রয়েছেন।
দূতাবাস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, হান্টা ভাইরাস-সংক্রান্ত সেই জাহাজে ক্রু হিসাবে কর্মরত দুই ভারতীয় নাগরিককে নেদারল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি অনুযায়ী তাঁদের নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ এবং এই দুই ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। ভারতীয় নাগরিকদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।”
ফ্রান্স জানিয়েছে, ওই জাহাজে পাঁচ জন ফরাসি যাত্রীর মধ্যে একজন হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রবিবার তাঁর উপসর্গ দেখা গিয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এক্স হ্যান্ডলে জানান, পাঁচ জনের মধ্যে এক জনের উপসৰ্গ দেখা গিয়েছে। এই পাঁচ জন যাত্রীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মহামারি ও অতিমারি বিভাগের ডিরেক্টর মাকিয়া ফন কেরখোডে ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন, হান্টা ভাইরাস করোনা ভাইরাসের মতো কিছু নয়। ফলে সংক্রমণের মাত্রা তার ধারেপাশে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
১২টি দেশকে সতর্ক করেছে হু। যে জাহাজে এই সংক্রমণ হয়েছে, তার যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই নেমে গিয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমেরিকা, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, নিউজ়িল্যান্ড, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, সুইৎজ়ারল্যান্ড, তুরস্ক, ব্রিটেনকে সতর্ক করা হয়েছে।
আর্জেন্তিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে কাবো ভার্দে যাচ্ছিল এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরী। হু জানিয়েছে, ওই জাহাজে আট জন হান্টা ভাইরাসে সংক্রামিতকে শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। জাহাজে সওয়ার পাঁচ জনের সংক্রমণ নিয়ে নিশ্চিত রিপোর্ট দিয়েছে গবেষণাগার। তিন জনের নিশ্চিত রিপোর্ট মেলেনি। ৬ এপ্রিল ওই জাহাজে প্রথম সংক্রামিতের খোঁজ মেলে। ১১ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ওই ব্যক্তির স্ত্রীও আক্রান্ত হন। সেন্ট হেলেনায় তিনি জাহাজ থেকে নেমে যান। উড়ান যাত্রার পরে তাঁর অবস্থান অবনতি হয়। ২৫ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে তাঁর মৃত্যু হয়।
গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, সংক্রামিত ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর মূত্র, লালারস, নাক বা চোখের জল থেকে এই সংক্রমণ ছড়ায়। এই ভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ার ঘটনা মূলত লাতিন আমেরিকাতেই চোখে পড়ে। হু জানিয়েছে, কেউ সংক্রামিতের সংস্পর্শে দীর্ঘ ক্ষণ থাকলে তবেই আক্রান্ত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংক্রামিতের সঙ্গে একই বাড়িতে বাস করলে, তাঁর সঙ্গী হলে বা তাঁকে সেবা করলে সেই ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারেন।