IPL 2026

এক পায়েই ভাই হার্দিকের দলকে হারালেন ক্রুণাল! কোহলির ‘গোল্ডেন ডাক’, তবু মুম্বইকে রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভারে হারাল বেঙ্গালুরু

রবিবার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেন বিরাট কোহলি। তবু বেঙ্গালুরুর জিততে অসুবিধা হল না। মুম্বইকে ২ উইকেটে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিল বেঙ্গালুরু। ভাই হার্দিক পাণ্ড্যের দলকে হারালেন দাদা ক্রুণাল পাণ্ড্য। শেষ ওভারে রুদ্ধশ্বাস লড়াই দেখা গেল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ২৩:৪৭
Share:

ক্রুণালের ব্যাটে জিতল বেঙ্গালুরু। ছবি: পিটিআই।

২০২৩-এর পর আইপিএলে কখনও শূন্য রানে আউট হননি তিনি। সেই নজির ভেঙেছিল আগের ম্যাচে লখনউয়ের বিরুদ্ধে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর। রবিবার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেন বিরাট কোহলি। তবু বেঙ্গালুরুর জিততে অসুবিধা হল না। মুম্বইকে ২ উইকেটে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিল বেঙ্গালুরু।

Advertisement

এক পায়ে ভাই হার্দিক পাণ্ড্যের দলকে হারালেন দাদা ক্রুণাল পাণ্ড্য। অসুস্থতার কারণে এ দিন হার্দিক মুম্বইয়ের হয়ে খেলতে পারেননি। কিন্তু দাদার হাতে দলের হার দেখলেন। ম্যাচের শেষ ওভারে রুদ্ধশ্বাস লড়াই দেখা গেল। শেষ ওভারে জিতল বেঙ্গালুরু। পয়েন্ট তালিকায় এক নম্বরে উঠে গেল তারা।

ক্রিকেটে প্রথম বলে আউট হলে তাকে ‘গোল্ডেন ডাক’ বলে। কোহলির জীবনের খুব বেশি বার এই জিনিস ঘটেনি। শেষ বার ২০২২-এ তিনি লখনউ এবং হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে পর পর দু’টি ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। তার পর আবার সেই জিনিস দেখা গেল।

Advertisement

চলতি আইপিএলে বেঙ্গালুরু অনেক ম্যাচে উতরে গিয়েছে কোহলি, দেবদত্ত পডিক্কল বা রজত পাটীদারের ইনিংসে ভর করে। এ দিন কোহলি যেমন ব্যর্থ হলেন, তেমনই ব্যর্থ পডিক্কল এবং পাটীদারও। একটি চার ও একটি ছয় মেরে ১১ বলে ১২ রান করেন পডিক্কল। ৮ বলে ৮ রান করে আউট পাটীদার। তখন বেঙ্গালুরু শিবিরে হারের আশঙ্কা ঘুরতে শুরু করেছিল।

সাধারণত বেঙ্গালুরুর হয়ে পাঁচে নামেন জিতেশ শর্মা। কিন্তু এ দিন ক্রুণালকে তুলে আনা হয়। এই একটি সিদ্ধান্তেই ম্যাচ ঘুরে গেল। রায়পুরের পিচে রান করা সহজ ছিল না। তবু মুম্বইয়ের বোলারদের বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়ে আগ্রাসী শট খেলে রান তুলতে থাকেন ক্রুণাল। উল্টো দিকে ওপেনার জেকব বেথেল একটি দিক ধরে রেখেছিলেন। খুব বেশি আগ্রাসী শট খেলতে পারছিলেন না।

লক্ষ্য বড় না হলেও বেঙ্গালুরু ধীর গতিতে খেলায় আস্কিং রেট বাড়ছিল। এই অবস্থায় ক্রুণাল পাল্টা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। অর্ধশতরান করে ফেলেন অনায়াসে। তার মধ্যে ফিরে যান বেথেলও (২৭)। জিতেশ শর্মা নেমে প্রথম ৫টি বল ব্যাটেই লাগাতে পারেননি। ফলে চাপ বাড়তে থাকে বেঙ্গালুরুর উপরে।

দলকে একাই টানছিলেন ক্রুণাল। অর্ধশতরানের পরে, ১৭তম ওভারে তাঁর পায়ের পেশিতে টান ধরে। মাঠে এসে শুশ্রূষা করেন চিকিৎসকেরা। ক্রুণাল উঠে দাঁড়ালেও দৌড়তে পারছিলেন না। সেই ওভারে রান নিলেও পরের ওভারে বড় শট ছাড়া খেলার ক্ষমতা ছিল না তাঁর। সেই অবস্থাতেই চেষ্টা করেন তিনি। ১৮তম ওভারে আল্লা গজনফরকে দু’টি ছয় মারেন। তৃতীয় বার বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। তিলক বর্মা ক্যাচ ধরেও বল ধরে রাখতে পারেননি। উপরে ছুড়ে দিয়ে বাউন্ডারির দড়ি পেরিয়ে যান। ভেতরে এসে ক্যাচ ধরেন।

এর পরে মনে হয়েছিল বেঙ্গালুরু জিততে পারবে না। বিশেষ করে ১৯তম ওভারে মাত্র তিন রান দেন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে রাজ অঙ্গদ বাবার শেষ ওভার সব হিসাব বদলে দেয়। সেই ওভারে ১৫ রান দরকার ছিল। প্রথম বলই ওয়াইড করেন রাজ। দ্বিতীয় বল নো। ফ্রি হিটের বলটিও নো বল করেন রাজ। পরের ফ্রি হিটের বলে রান করতে পারেননি রোমারিয়ো শেফার্ড। এর পর ফের ওয়াইড করেন রাজ। সেই বলে একটি রানও হয়।

নাটকের তখনও বাকি ছিল। তিন নম্বর বলে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন শেফার্ড। ক্রিজ়ে নামেন ভুবনেশ্বর কুমার। চতুর্থ বলে আবার ওয়াইড করেন রাজ। পরের বলেই ছয় মারেন ভুবনেশ্বর। পঞ্চম বলে এক রান নেন। শেষ বলে ২ রান দরকার ছিল। সেই ২ রান নিয়ে নেন রসিখ দার।

তার আগে ব্যাট করতে নেমে আবার ব্যাটিং ব্যর্থতার মুখে পড়ে মুম্বই। দলের ওপেনার, অধিনায়ক ব্যর্থ হন। ৩৬ বছরের ভুবনেশ্বর চার উইকেট নিয়ে চমকে দেন। এ বার বেঙ্গালুরু নিজেদের দ্বিতীয় হোম গ্রাউন্ড হিসাবে বেছে নিয়েছে রায়পুরকে। সেই মাঠে এ দিনই ছিল প্রথম ম্যাচ। টসে জিতে বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাটীদার প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম ওভারেই রায়ান রিকেলটনকে (২) ফিরিয়ে দেন ভুবনেশ্বর।

রোহিতের সঙ্গে যোগ দেন নমন ধীর। দু’জনে মিলে প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। দ্বিতীয় ওভারে জশ হেজ়লউডকে একটি চার এবং দু’টি ছয় মেরে চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন রোহিত। কিন্তু বেশি ক্ষণ তা পারেননি। তৃতীয় ওভারে রোহিতকেও তুলে নেন ভুবনেশ্বর। খোঁচা দিয়ে জিতেশ শর্মার হাতে ক্যাচ দেন রোহিত (২২)।

পরের বলেই আউট হন সূর্যকুমার। বাবা হওয়ার পর আবার আইপিএলে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দুঃসময় কাটতেই চাইছেন না। আইপিএলের পর তিনি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থেকে গেলে অবাকই হতে হবে। এ দিন ভুবনেশ্বরের বলে খোঁচা মেরে ক্যাচ দেন বিরাট কোহলির হাতে।

২৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছিল মুম্বই। দলকে বাঁচাতে আসরে নামেন নমন এবং তিলক বর্মা। মুম্বইএর আগে তিনে তিলককে নামালেও সম্প্রতি নমন সেই জায়গায় খেলছেন। পাঁচে নেমে তিলকও এ দিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেন। ধীরগতিতে হলেও দু’জনে রানের গতি বাড়াতে থাকেন। কিন্তু রসিখ দারের বলের থই পাননি তিনি। ইনসুইং ভেতরে ঢুকে এসে নমনের (৪৭) স্টাম্প নড়িয়ে দেয়।

বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি তিলকও। তিনি অর্ধশতরান করেন। শেষ পর্যন্ত ভুবনেশ্বর দ্বিতীয় স্পেলে এসে তুলে নেন তিলককে (৫৭)। এর পর আর মুম্বইয়ের বড় জুটি হয়নি। ওপেনিংয়ে উইল জ্যাকস ভাল খেলছিলেন। এ দিন ছয়ে নেমে জ্যাকস (১০) ব্যর্থ। তরুণ রাজ অঙ্গদ বাবা চলতি আইপিএলে প্রথম বার ব্যাট করতে নেমেছিলেন। কিন্তু চাপের মুখে ভাল খেলতে পারেননি তিনিও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement