Brick Factory

যেন ক্রীতদাস! বিহারের ইটভাটা থেকে উদ্ধার ৪৭ শ্রমিক

এক জন মহিলার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসে এবং পুলিশ ওই ইটভাটায় অভিযান চালায়। স্থানীয় ডিএসপি ওম প্রকাশ জানান, আহত মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

মহিলাদের উপরে চলত যৌন নির্যাতন, বিনা পয়সায় কাজ করানো হত। নির্দেশ না মানলেই জুটত গালি, চলত গুলিও। ক্রীতদাসের মতোই অবস্থা ছিল শ্রমিকদের। বিহারের সহর্ষ জেলার একটি ইটভাটা থেকে অসমের ধুবুড়ির ৪৭ জন শ্রমিক উদ্ধার হওয়ার পরে এমন বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের কথা সামনে এল। বেশ কয়েক জন মহিলা ও শিশু-সহ শ্রমিকদের ওই দলকে কাহারা ব্লকের ধামসাইনি গ্রামের স্টার মার্ক ইটভাটা থেকে উদ্ধার করে অসমে ফিরিয়ে আনা হন। বাসে করে ধুবুড়ি নিয়ে এনে তাঁদের প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এক জন মহিলার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি সামনে আসে এবং পুলিশ ওই ইটভাটায় অভিযান চালায়। স্থানীয় ডিএসপি ওম প্রকাশ জানান, আহত মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ইটভাটার মালিক মহম্মদ ওয়াইস কার্নি ওরফে চুন্না মুখিয়া এবং তার সহযোগী অমিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে। দু’জনকেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ধুবুড়ি ফিরে আসা শ্রমিকদের বয়ানে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের চিত্র। অভিযোগকারী শ্রমিক রেফাজ আলি জানান, তাঁদের বিনা মজুরিতে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করানো হত। ব্যবহার করা হত পশুর থেকেও খারাপ। কথা না মানলেই চলত মারধর, গুলি করার হুমকি। শ্রমিকদের দাবি, মাতাল অবস্থায় স্থানীয় দুষ্কৃতীরা সেখানকার মহিলা ও নাবালিকা শ্রমিকদের নিয়মিত তুলে নিয়ে যেত। প্রতিবাদ করলে জুটত মারধর। রেফাজের স্ত্রী দুষ্কৃতীদের কথা না মানার ফলেই তাঁর পায়ে গুলি করা হয়। অন্য এক শ্রমিকের দাবি, এক কিশোরী নাচতে অস্বীকার করায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছেঁকা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সাত জন নাবালিকা বর্তমানে সহর্ষের একটি সরকারি শিশু নিবাসে রয়েছে। তাদের বয়ান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জেলার শ্রম আধিকারিক রবীন্দ্র কুমার শর্মা জানান, শ্রমিকদের প্রায় ১৪টি পরিবার পাঁচ-ছয় মাস আগে কাজের সন্ধানে বিহারে গিয়েছিল। সেখানে গিয়েই তাঁরা ফেঁসে যান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন