(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিন (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কোর অপরিশোধিত তেল আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতে। ইউরোপীয় ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (সিআরইএ)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৪৪ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের অপরিশোধিত তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে ভারত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী তেল বিক্রি ক্ষেত্রে রাশিয়ার মোট আয় প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইউরো।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া থেকে মোট ১৬২.৫ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের জ্বালানি (যার মধ্যে ১৪৩.৮৮ বিলিয়ন ইউরো তেল এবং ১৮.১৮ বিলিয়ন ইউরো কয়লা) কিনেছে ভারত। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে চিনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এখনও পর্যন্ত চিন কিনেছে ২৯৩.৭ বিলিয়ন ইউরোর তেল।
রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে মোট ২১৮.১ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর মধ্যে ১০৬.৩ বিলিয়ন ইউরো তেলের জন্য, ৩.৫ বিলিয়ন ইউরো কয়লার জন্য এবং ১০৮.২ বিলিয়ন ইউরো গ্যাসের জন্য খরচ হয়েছে।
যদিও, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জি৭ দেশগুলো (আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ইতালি, ফ্রান্স,জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। তবে, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের তরফে কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এমন কি চিন, ভারত, ইরান, ইজ়রায়েল ও সৌদি আরব-সহ বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেনি। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র তুরস্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ সার্বিয়াও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অস্বীকার করে।
রাশিয়া থেকে কম দামে তেল পাওয়াক কারণে সে দেশে ভারতের আমদানি ১ শতাংশ থেকে প্রায় ৪০ শতাংশে বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমানে আমেরিকার শুল্ক আরোপের ফলে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমে ২৫ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে।
রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের মতো কিছু ভারতীয় কোম্পানি আপাতত রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড-সহ বেশ কিছু সংস্থা রাশিয়ার থেকে তেল আমাদানি করছে।