Women Reservation

মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন, শঙ্কা প্রকাশ বিরোধীদের

রাহুল গান্ধী সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বিজেপির একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা হল ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য সব লোকসভা আসন নিজেদের সুবিধামতো জালিয়াতি করা।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৪
Share:

—ফাইল চিত্র।

বিরোধীরা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অহেতুক তাড়াহুড়ো’র অভিযোগ তুলেছেন বুধবার। কিন্তু সেই সমালোচনা উপেক্ষা করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই লোকসভায় আসন বাড়িয়ে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ চালু করতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেই উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন। ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ শীর্ষক ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাসের বিলও পেশ করা হবে আসন্ন অধিবেশনে।

Advertisement

লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশ্যে মোদী সরকার মোট তিনটি বিল আনতে চলেছে। তার খসড়া মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে সাংসদদের কাছে। সেগুলি হল— মহিলা সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হতে পারে। তার এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

সংবিধানের ৮১ নম্বর ধারা অনুযায়ী লোকসভার সর্বোচ্চ আসন ৫৫২ হতে পারে। এর মধ্যে ৫৩০ জন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এবং ২০ জন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে নির্বাচিত হতে পারে। ৮১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এর আগে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান জনগোষ্ঠীর ২ জন সদস্য লোকসভায় মনোনীত হতেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জমানায় ২০১৯ সালে সংবিধানের ১০৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে তা তুলে দেওয়া হয়েছিল। এ বার ৮২ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে বিলে। ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণনার শেষ হওয়ার পরে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। কিন্তু জনগণনার রিপোর্ট প্রকাশের আগেই লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে চাইছে মোদী সরকার।

Advertisement

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বিজেপির একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা হল ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য সব লোকসভা আসন নিজেদের সুবিধামতো জালিয়াতি করা। প্রস্তাবিত বিলগুলো সীমানা পুনর্বিন্য়াস সংক্রান্ত সমস্ত সাংবিধানিক সুরক্ষা সরিয়ে দিচ্ছে, ফলে পুরো ক্ষমতা চলে যাবে ডিলিমিটেশন কমিশনের হাতে, যেটিকে সরকার নিজেই নিয়োগ ও পরিচালনা করবে।’’

সংসদের বিশেষ অধিবেশনের আগে রণকৌশল স্থির করতে বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী দলগুলি। বৈঠকের পরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বলেন, ‘‘এই বিলটি ভয়ঙ্কর, কারণ এটি গণতন্ত্রকে সংকটে ফেলবে। এর শর্তগুলি দেখলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়।” সেই সঙ্গে তিনি বলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩ সালেই সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে। সেই বিলের আড়ালে, গত তিন বছরে কিছু না করেই, এখন তাদের সুবিধামতো বৃহৎ পরিসরে আসন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এটি গণতন্ত্রকে ছিনতাই করার চেষ্টা।’’

Advertisement

২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে এক সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল।

বেণুগোপাল বলেন, ‘‘এ বার সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিকৃত করা। আমাদের দাবি, বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যেই সংরক্ষণ কার্যকর করা হোক।’’ বুধবার বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সভায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি ডিএমকের টি আর বালু, আরজেডির তেজস্বী যাদব, তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ, উদ্ধবসেনার সঞ্জয় রাউত, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টি, আইইউএমএল এবং বাম দলগুলির প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement