যোগীর শপথে এসে সৌজন্য অখিলেশের

ভোটের প্রচারে লড়াই হয়েছে অনেক। এ বার সৌজন্যের রাজনীতি দেখিয়ে যোগী আদিত্যনাথের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন অখিলেশ যাদব। সঙ্গে বাবা মুলায়ম সিংহ যাদবও। কাঁসিরাম স্মৃতি উপবনের অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে হেসে কথা বলতে দেখা গেল অমিত শাহ কিংবা রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো বিজেপি নেতাদের।

Advertisement

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৭ ০৪:৪৩
Share:

নতুন উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। ছবি: পিটিআই

ভোটের প্রচারে লড়াই হয়েছে অনেক। এ বার সৌজন্যের রাজনীতি দেখিয়ে যোগী আদিত্যনাথের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন অখিলেশ যাদব। সঙ্গে বাবা মুলায়ম সিংহ যাদবও। কাঁসিরাম স্মৃতি উপবনের অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে হেসে কথা বলতে দেখা গেল অমিত শাহ কিংবা রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো বিজেপি নেতাদের। নরেন্দ্র মোদীকে দেখেই এগিয়ে গেলেন মুলায়ম-অখিলেশ। শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দনের পরে অখিলেশের পিঠ চাপ়ড়ে দিলেন মোদী। আর প্রধানমন্ত্রীর কানে কানে কথা বলতেও দেখা গেল মুলায়মকে।

Advertisement

তবে এই সৌজন্য দেখালেও বিজেপি-বিরোধী রাজনীতির অঙ্ক থেকে সরছেন না অখিলেশ। তাঁর শিবিরের খবর, সদ্য ক্ষমতা হারানো অখিলেশ ভালই বুঝছেন, সময় এখন প্রতিকূল। তবে রাজনীতিতে এ ধরনের ঢেউ অস্থায়ী। তাই ঢেউয়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে না লড়ে এই মুহূর্তে আপাতত ঘর গুছানোর দিকেই মন দিতে চাইছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথের শপথে রাজনৈতিক ভাবে ফায়দাই দেখছেন অখিলেশরা। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁরা বলছেন, আদিত্যনাথের মতো কট্টর নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করায় স্বাভাবিক নিয়মেই গোটা উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু ভোট একজোট হতে বাধ্য। এই মুসলিম ভোটকে ফের নিজেদের পক্ষে দেখতে চাইছেন সমাজবাদী নেতৃত্ব। অখিলেশ মনে করছেন, বিজেপির উগ্র হিন্দুত্বের কারণে যাদব ভোট ব্যাঙ্কে চিড় ধরতে পারে। কারণ উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের পাশে নিয়ে এক মহাহিন্দু জোট গঠনের কৌশল নেন মোদী-অমিত শাহরা। তাই মুসলিম ও যাদব— দুই শিবিরকে ধরে রাখতে আপাতত ভারসাম্যের রাজনীতি যে জরুরি, তা বিলক্ষণ বুঝছেন মুলায়ম-পুত্র। আগামী দিনের রণকৌশলও ভাবা হচ্ছে সেই পথেই।

Advertisement

যোগী আদিত্যনাথের শপথে এক মঞ্চে নরেন্দ্র মোদী ও মুলায়ম সিংহ যাদব। রবিবার। ছবি: পিটিআই

দু’বছর পরে লোকসভা ভোট। গত লোকসভা ও সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বহু আসনে বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগির সুযোগ নিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিজয়রথ থামাতে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির হাত মেলানো প্রয়োজন বলেই মত অনেকের। ভোটের ফল ঘোষণার আগের দিনেই মায়াবতীর উদ্দেশে জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়ে এক পা বাড়িয়ে রেখেছেন অখিলেশ। সময়ের এই দাবি মেনেই অস্তিত্ব বাঁচাতে এখন প্রধান দুই বিরোধী শক্তি একজোট হয় কি না তা দেখার।

এ তো গেল উত্তরপ্রদেশের কথা। রাজ্যের বাইরে বিজেপিকে রুখতে বৃহত্তর জোট গড়া যে দরকার, তা বুঝতে পারছেন বিরোধীরা। মোদী বিরোধী এই জোটে কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— প্রয়োজন সকলকেই। কিন্তু বিজেপিকে রুখতে গেলে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে কংগ্রেসকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের ভূমিকা নিতে হবে, তা-ও বুঝছেন অখিলেশ। তাই কংগ্রেসের হাত শক্ত করতে কেন্দ্রীয় স্তরে রাহুলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলার পক্ষপাতী অখিলেশ। সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি কিংবা জেডিইয়ের কে সি ত্যাগির মতেও, কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে গোটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলি একজোট হলে তবেই বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দেওয়া সম্ভব হবে। নচেৎ নয়।

কিন্তু বিরোধীদের সমস্যা হচ্ছে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, রাজস্থান কিংবা গুজরাতের মতো রাজ্যে অ-কংগ্রেসি অ-বিজেপি কোনও শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। সেই রাজ্যগুলিতে লড়াই সরাসরি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। এই রাজ্যগুলিতে এখন শক্তি বাড়াতে হবে কংগ্রেসকে। কারণ অখিলেশরা মনে করছেন, ওই সব রাজ্যে কংগ্রেস দুর্বল হলে সার্বিক ভাবে আসন কমবে ধর্মনিরপেক্ষ জোটের। যার ফায়দা তুলে কেন্দ্রে ফের ক্ষমতা দখল করে নেবে বিজেপি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement