(বাঁ দিকে) প্রতীক জৈন, অখিলেশ যাদব (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে টানা তৃতীয় বার সরকার গড়ার চেষ্টায় বিজেপি। অন্য দিকে, লোকসভা ভোটে সাফল্যের ধারা বজায় রেখে লখনউয়ের মসনদ দখলে রাখতে মরিয়া অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টি। সেই লক্ষ্যেই ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তি করেছেন অখিলেশ। সমাজবাদী পার্টি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ‘শোটাইম’ নামে আরও একটি সংস্থাকেও প্রচার-কৌশলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমাজবাদী পার্টির তরফে।
সমাজবাদী পার্টির এক সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে আইপ্যাকের বড় অংশের কাজ কেন্দ্রীভূত পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে। এখানে তারা শাসকদল তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। ফলে সমাজবাদী পার্টির জন্য পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু হবে মূলত পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর। আইপ্যাকের ওই দলে নেতৃত্ব দেবেন বিনেশ চন্দেল। জন সূরাজ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা নেতা প্রশান্ত কিশোর আইপ্যাক ছাড়ার পরেও বিনেশ চন্দেল ও প্রতীক জৈনের নেতৃত্বে সংস্থাটি সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে।
প্রশান্ত থাকতেই তারা বিহারে জেডিইউ (২০১৫), মহারাষ্ট্র-এ উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন অবিভক্ত শিবসেনা (২০১৯), কংগ্রেস-এর হয়ে উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবে (২০১৭), আপ-এর জন্য দিল্লিতে (২০২০ ), বিজেপি-র হয়ে ২০১৪ লোকসভা ভোটে, ডিএমকে-র জন্য তামিলনাড়ুতে (২০২১) এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে (২০১৯) কাজ করেছে। ২০১৯ সাল থেকে তারা ধারাবাহিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলের হয়ে কাজ করে সর্বস্তরের নির্বাচনে সাফল্য এনে দিয়েছে।
সমাজবাদী পার্টি সূত্রে খবর, জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখে কলকাতায় এসেছিলেন অখিলেশ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সাংসদ-স্ত্রী ডিম্পল যাদব ও প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কিরণময় নন্দ। ওই দিনই তাঁরা নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একান্তে দুই নেতার বৈঠকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশকে আইপ্যাকের থেকে নির্বাচনী সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। তার পরেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সময় সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্ব ও আইপ্যাকের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। পরে দিল্লির বৈঠকে আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করেছে সমাজবাদী পার্টি।
উল্লেখ্য, সমাজবাদী পার্টি ২০১২ সালে শেষ বার উত্তরপ্রদেশে ৪০৩টির মধ্যে ২২৪টি আসন জিতে সরকার গড়েছিল। সে বার পিতা মুলায়ম সিংহ যাদব নিজে মুখ্যমন্ত্রী পদে না বসে অখিলেশকে মুখ্যমন্ত্রী করেন। কিন্তু দিনে দিনে বাবার সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকে অখিলেশের। তত দিনে দিল্লিতে প্রতিষ্ঠা হয়ে গিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেই আবহে ২০১৭ সালে সমাজবাদী পার্টির অভ্যন্তরীণ কলহে আসন নেমে যায় ৪৭-এ, ৩৩২ আসন জিতে উত্তরপ্রদেশে সরকার গঠন করে বিজেপি। সে বার পিতার অমতে গিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ভোটে লড়াই করেছিলেন অখিলেশ। তাতে ফল বিরূপ হয়। সকলকে চমকে দিয়ে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসায় যোগী আদিত্যনাথকে। ২০২২ সালে ভোট শতাংশ বাড়িয়ে ১১১টি আসন পান অখিলেশ। তাতেও সরকারে ফেরা হয়নি তাঁর।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘অব কি বার, ৪০০ পার’ স্লোগান দিয়ে ধাক্কা খায় বিজেপি। ২৪০ আসনে থেমে যায় নরেন্দ্র মোদীর দল। এই প্রথম বার শরিকদের সমর্থন নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির আসন ৬৪ থেকে নেমে ৩৩ হয়ে যায়। আর ৩৭ আসন জিতে অখিলেশ বিজেপিকে ধাক্কা দিতে সফল হন। সেই ‘জয়ে’ উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হতে এখন থেকেই উদ্যোগ শুরু করেছেন অখিলেশ। সেই কাজেই তিনি আইপ্যাক এবং শোটাইম সংস্থাকে ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটের কৌশল স্থির করার দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, শোটাইম সংস্থাটি বর্তমানে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের রাজনৈতিক কৌশল দেখভাল করছে। ভোটের ক্ষেত্রেও শিন্দে ওই সংস্থার রণনীতির ওপরেই আস্থা রেখেছিলেন।