Shankaracharya-Yogi Adityanath

‘যোগীর অপমান মানতে পারব না’! শঙ্করাচার্যের মন্তব্যকে দায়ী করে ইস্তফা দিলেন অযোধ্যার আমলা

শঙ্করাচার্য এবং তাঁর অনুগামীদের অভিযোগ, মাঘমেলার সময়ে প্রয়াগরাজের সঙ্গমে তাঁরা ডুব দিতে গেলে বাধা পান। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রথে চেপে স্নান করতে যাচ্ছিলেন শঙ্করাচার্য। ভিড় এলাকায় মানুষজন পদপিষ্ট হতে পারেন মনে করে তাঁর রথযাত্রা আটকানো হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৩
Share:

(বাঁ দিকে) শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মধ্যে টানাপড়েন বাড়ছে। এই আবহে ইস্তফা দিলেন অযোধ্যার এক আমলা। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং সংবিধানের সমর্থনেই এই কাজ করছেন তিনি।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুতে। শঙ্করাচার্য এবং তাঁর অনুগামীদের অভিযোগ, মাঘমেলার সময়ে প্রয়াগরাজের সঙ্গমে তাঁরা ডুব দিতে গেলে বাধা পান। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রথে চেপে স্নান করতে যাচ্ছিলেন শঙ্করাচার্য। ভিড় এলাকায় মানুষজন পদপিষ্ট হতে পারেন মনে করে তাঁর রথযাত্রা আটকানো হয়। বাকি পুণ্যার্থীদের মতো তাঁকেও হেঁটে যেতে বলা হয়।

শঙ্করাচার্যের অভিযোগ, এ ভাবে তাঁকে ‘অপমান’ করা হয়েছে। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী এবং শঙ্করাচার্যের মধ্যে বাক্যবিনিময় হয়। শঙ্করাচার্যকে নোটিস ধরায় প্রয়াগরাজ মেলা কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার উল্লেখ করে তাতে বলা হয়, যত দিন ওই মামলার নিষ্পত্তি না হচ্ছে, তত দিন কোনও ধর্মীয় নেতাকে জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না বলে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

এই বিতর্কের মাঝে ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন)-এর নতুন নীতির সমালোচনা করেছেন শঙ্করাচার্য সরস্বতী। ইউজিসি-র নতুন নীতি অনুসারে তফসিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়াদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য নতুন কমিটি, হেল্পলাইন গঠন করতে হবে। এই নীতি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শঙ্করাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘এ ভাবে এক জাতির বিরুদ্ধে আর এক জাতিকে লড়িয়ে আপনারা ভুল পদক্ষেপ করছেন।’’ শঙ্করাচার্যের দাবি, এর ফলে হিন্দুধর্মের ‘ক্ষতি’ হবে।

তার মধ্যেই মঙ্গলবার অযোধ্যার জিএসটি কমিশনার প্রশান্তকুমার সিংহ ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংবিধান, গণতন্ত্রের সমর্থনে আমি ইস্তফা দিলাম। অভিমুক্তেশ্বরানন্দের মন্তব্যে আমি ব্যথিত, যা আসলে সমাজে বিভাজন আনতে করা হয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী উদ্দেশেই এই মন্তব্য করেছেন শঙ্করাচার্য। তাঁর কথায়, ‘‘এই সরকার আমার অন্নদাতা। রোবোটের মতো বেতন নেওয়া আমার কর্তব্য নয়। যোগী আদিত্যনাথ নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। আমি তাঁর অপমান সহ্য করব না।’’ তিনি আরও জানান, ইউজিসি নীতি নিয়ে যে ‘রাজনীতি’ হচ্ছে, তাতে তিনি দুঃখিত। তাঁর ইস্তফা গৃহীত হলে তিনি সামাজিক কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement