মন্দিরকে সমর্থন করল কংগ্রেসও

এ ধরনের আক্রমণ যে আসতে পারে, সেটি আঁচ করেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা যে টুইট করেছেন, তাতে সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উপরেই শুধু জোর দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৯ ০৪:৩৪
Share:

অযোধ্যা রায় মেনেই নিল কংগ্রেস।

সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার পর অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পক্ষেই মত দিল কংগ্রেস।

Advertisement

কংগ্রেস ভেবেছিল, সামনের সপ্তাহে রায় আসবে। সেই মোতাবেক রবিবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আচমকাই কাল রাতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রায় আজ। তড়িঘড়ি আজ সকালে দশ জনপথে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকেন সনিয়া গাঁধী। রাহুল গাঁধী ছিলেন না, তবে হাজির ছিলেন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা-সহ অন্য শীর্ষ নেতারা। ওয়ার্কিং কমিটি আলোচনা করে একটি প্রস্তাবও পাশ করল। যাতে বলা হল, রায়কে সম্মান জানিয়ে সব পক্ষ, সব ধর্মকে সদ্ভাব বজায় রাখার আবেদন করা হবে।

কিন্তু কমিটিতে যা আলোচনা হয়নি, প্রস্তাবে যা লেখা হয়নি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সেই কথাই ঘটা করে শোনাল কংগ্রেস। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা, রাজীব শুক্লর মতো নেতারা এআইসিসি সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করতে এলেন। স্পষ্ট বললেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের রায় এসে গিয়েছে। কংগ্রেস রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে। মনে রাখবেন, ১৯৯৩ সালে কংগ্রেস সরকারই এই জমি অধিগ্রহণ করেছিল।’’ কিন্তু মুসলিমদের অনেকে তো রায় মানছেন না! রণদীপের উত্তর, ‘‘প্রত্যেকের আইনি সুরাহা চাওয়ার অধিকার আছে।’’

Advertisement

কিছু ক্ষণের মধ্যে কংগ্রেস শিবির থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দেওয়া হল, ঠিক তিরিশ বছর আগে আজকের দিনেই অযোধ্যায় মন্দিরের শিলান্যাস করার অনুমতি দিয়েছিলেন রাজীব গাঁধী। সঙ্গে তোলা হল, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও। কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক মঞ্চ থেকে মন্দির নির্মাণের প্রতি এই প্রীতি দেখে বিঁধলেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। বললেন, ‘‘কংগ্রেস তার আসল রং দেখাল। অযোধ্যায় তালা না খুললে সেখানে মূর্তি প্রতিষ্ঠা হত না। আর নরসিংহ রাও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলে বাবরি মসজিদও থাকত।’’

এ ধরনের আক্রমণ যে আসতে পারে, সেটি আঁচ করেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা যে টুইট করেছেন, তাতে সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার উপরেই শুধু জোর দেওয়া হয়েছে। মন্দির নির্মাণের পক্ষে কোনও মন্তব্য নেই, যেমনটি নেই ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবেও। কংগ্রেসের নেতারা কবুল করছেন, দলের মধ্যে থেকে বিরুদ্ধ মত উঠে আসায় এমন কৌশল নিতে হয়েছে। দলের বৈঠকে অনেক নেতা এমনও বলেছেন, রায় মন্দিরের পক্ষে এলে কংগ্রেসের নেতাদের করসেবা করা উচিত। গুজরাত ভোটের সময় রাহুল যে ভাবে মন্দির ভ্রমণ করছিলেন, ফেরাতে হবে সেই সংস্কৃতি। দলের অন্য পক্ষের মত ছিল, এমন করলে আঁচ পড়বে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিতে। তার বিপক্ষে তখন বলা হয়, ইন্দিরা গাঁধী রুদ্রাক্ষের মালা পরেও ধর্মনিরপেক্ষ নেত্রী ছিলেন।

মন্দিরের পক্ষে কংগ্রেসের এই ‘অলিখিত’ ও ‘আনুষ্ঠানিক’ অবস্থান নিয়ে যাতে বেশি জলঘোলা না হয়, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পুঁজি করে কংগ্রেস আজ বিজেপিকে পাল্টা তোপ দাগার রাস্তাও খুঁজেছে। রণদীপ বলেন, ‘‘আজকের রায় যেমন রামমন্দির নির্মাণের দরজা খুলেছে, তেমনই আস্থা নিয়ে রাজনীতি করার দরজাও পাকাপাকি বন্ধ হয়েছে। ভগবান রামকে নিয়ে যাঁরা বিভাজনের দুঃসাহস করবেন, রামের ঐতিহ্য তাঁরা বোঝেন না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement