ক্রমশ গণ্ডি বাড়ছে দিল্লি বইমেলার। বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত পঞ্চদশ এই বইমেলায় এ বার রীতিমতো আন্তর্জাতিক ছোঁয়া। এই প্রথম বাংলাদেশের প্রকাশকেরাও যোগ দিচ্ছেন এই বইমেলায়। বই বিক্রির দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার পরে দেশে তৃতীয় বৃহত্তম বইমেলা এটিই। তবে উদ্যোক্তাদের কথায়— কলকাতা বইমেলা মহাকাব্য হলে, দিল্লির এই বইমেলা ছোট গল্প।
হাতে গোনা কয়েকটি স্টল নিয়ে পনেরো বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল দিল্লি বইমেলা। নিউ দিল্লি কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে হওয়া এ বারের বইমেলায় উপস্থিত থাকবে ৬০ জন প্রকাশক। বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তপন সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘জায়গার অভাবে অনেককে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। প্রকাশকেরা এখন দিল্লিতে আসতে চান। কারণ এখানে বাংলা বইয়ের বিক্রি বাড়ছে।’’ ১৫ মার্চ বইমেলার উদ্বোধন করবেন নবনীতা দেবসেন। থাকছে আনন্দ-সহ বাংলার প্রথম সারির
প্রকাশকেরা। মেলা চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত।
প্রথম বছরে বাংলাদেশের প্রকাশকের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও এই উদ্যোগকে একটি সদর্থক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান দেবাশিস ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি আগামী দিনে ওই সংখ্যাটি আরও বাড়বে।’’
অতীতে কেন্দ্রে বাংলার আমলাতন্ত্রের যে দাপট ছিল, তা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ইন্টারনেট, কিন্ডলে বা ফ্লিপকার্টের যুগে দিল্লির নতুন বাঙালি প্রজন্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ— বই পড়া তো দূরের কথা, ভাল করে বাংলা ভাষাটাই তারা বলতে পারে না। সেই মরুভূমিতে ফুল ফোটানোর মতো অসাধ্য সাধনে নেমেছেন তপনবাবুরা। বইমেলা তার একটি অংশ।
সাহিত্যের সঙ্গেই মেলায় থাকছে বাংলা সংস্কৃতির প্রদর্শনীও। কীর্তন, বাউল, গম্ভীরা— বঙ্গ লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি থাকছে দিল্লির কলাকুশলীদের নিয়ে ‘চাঁদ বণিকের পালা’ ও বহরমপুরের কলাক্ষেত্রের ছৌ নাচে ‘তাসের দেশ’। বিভিন্ন রাজ্যের বাঙালি কবিদের কবিতা পাঠের আসর বসবে ছ’দিন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে বডোদরা ও চেন্নাইয়ের বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনও।