—প্রতীকী চিত্র।
প্রতি সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের নিয়ম চালু করার দাবিতে আজ মঙ্গলবার দেশ জুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘট সফল করতে প্রস্তুত তাঁরা, জানিয়েছেন ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির নেতারা। ধর্মঘটীদের দাবি, দেশে এ দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। ধাক্কা খেতে পারে এটিএম পরিষেবাও। কারণ, এটিএমগুলির কর্মীরাও ধর্মঘটে শামিল হবেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দরজা বন্ধ থাকবে।
যদিও বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, টানা বেশ কয়েক দিন ধরে ব্যাঙ্ক বন্ধ বলে সাধারণ মানুষ এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে যাতে বিপাকে না পড়েন, সেই ব্যবস্থা তাঁরা আগে থেকেই করে রেখেছেন। বিশেষত আজ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে এটিএম পরিষেবা চালু রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তাঁরা সারা দেশের এটিএমে টাকা ভরে দিয়েছেন।
এ দিনের ধর্মঘট নিয়ে দেশে টানা চার দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ। রাজ্যে তা গড়াচ্ছে পাঁচ দিনে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ২৩ জানুয়ারি ছিল নেতাজি জয়ন্তী ও সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ছুটি। ২৪ জানুয়ারি মাসের চতুর্থ শনিবার বলে রাজ্য-সহ সারা দেশে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। ২৫ রবিবার ও ২৬ তারিখ প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটি। ফলে গত শুক্রবার থেকে ব্যাঙ্কের পরিষেবা পাচ্ছেন না এ রাজ্যের মানুষ। যে কারণে প্রশ্ন ওঠে, আচমকা টাকার প্রয়োজন হলে অন্তত এটিএম থেকে তা পাওয়া যাবে তো? আপৎকালীন দরকারে হয়রান হবেন না তো সাধারণ মানুষ? ন্যাশনালাইজ়ড ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস অবশ্য জানিয়েছেন, হাসপাতাল-সহ জরুরি কিছু জায়গার এটিএমকে ধর্মঘটের আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কের শাখা সংলগ্ন এটিএমগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বন্ধ থাকতে পারে। তবে অন্য (অফ সাইট) এটিএমগুলিতে পরিষেবা চালুর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে আজকের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্কের কর্মী এবং অফিসারদের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (ইউএফবিইউ)। সংগঠনের আহ্বায়ক সুদীপ দত্ত বলেন, ‘‘দেশ জুড়েযাতে সব ব্যাঙ্কেই ধর্মঘট হয়, তার প্রস্তুতিনিয়েছি। বেশির ভাগ এটিএমের দরজাওবন্ধ থাকবে। সেখানকার কর্মীরা আমাদের প্রতিবাদকে সমর্থন করছেন। যা আসলে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে।’’
অফিসারদের সংগঠন আইবকের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় এবং সঞ্জয়ের অভিযোগ, ‘‘আমাদের সঙ্গে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সংগঠন আইবিএ চুক্তি করা সত্ত্বেও পাঁচ দিনের সপ্তাহ চালু করছে না কেন্দ্র। অথচ কেন্দ্র এবং বহু রাজ্য সরকার, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক, জীবন বিমা নিগম-সহ বহু সরকারি দফতরে পাঁচ দিনে সপ্তাহ। ব্যাঙ্ক কর্মীদের প্রতি কেন্দ্রের এই আচরণই ধর্মঘটে যেতে বাধ্য করেছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে