প্রতীকী ছবি।
পশ্চিমবঙ্গ, গোয়া, অসমের মতো রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে তৃণমূল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছেন। পাল্টা কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের নিশানা করতে গিয়ে প্রকারান্তরে বিজেপির হাতই শক্ত করছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে রবিবার পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার দুই নেতাকে রাজনৈতিক করমর্দন করতে দেখা গেল। নেহরুর জন্মবার্ষিকীতে সংসদ ভবনের অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনুপস্থিতি নিয়ে টুইট করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তার একটু পরেই সেই টুইটকে তুলে ধরে তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও একই কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
দীর্ঘ দিন পরে কংগ্রেস এবং তৃণমূল একই মঞ্চে এসে বিজেপিকে আক্রমণ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজধানীতে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মধ্যে ‘আহামরি’ কোনও ব্যাপার নেই। কারণ বিভিন্ন রাজ্যে এই দু’দল পরস্পর যুযুধান থাকলেও কক্ষ সমন্বয়ের প্রশ্নে (বিশেষত সম্প্রতি রাজ্যসভায়) নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেই চলছে। এ বারেও সংসদের শীতকালীন অধিবেশন আসন্ন। ফলে তারই মহড়া সারছেন জয়রাম-ডেরেকরা। তবে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ এটাও বলছে, গত বাদল অধিবেশনে কক্ষ সমন্বয়ের প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রকম সহযোগিতার পথে হাঁটেনি তৃণমূল। রাহুল গাঁধীর ডাকা বৈঠকগুলিকে কার্যত এড়িয়েই যেতে দেখা গিয়েছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে কোনও রাখঢাক না করে বারবার দলের দুই কক্ষের নেতা তার কারণ দেখিয়েছেন।
আজ সকালে জয়রাম টুইট করে বলেন, “যাঁদের প্রতিকৃতি সেন্ট্রাল হলে শোভা পায়, তাঁদেরই একজনের জন্মবার্ষিকী পালনের চিরাচরিত অনুষ্ঠানে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল। লোকসভার স্পিকার, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সেখানে অনুপস্থিত। একজনও মন্ত্রী হাজির নেই। এর থেকে অবমাননাকর আর কী হতে পারে?” এর পরেই তাঁর টুইট তুলে ধরে ডেরেক লেখেন, “আমাকে এখন আর কিছুই অবাক করে না। এই শাসকরা দেশের মহান প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করছেন। তার মধ্যে সংসদও রয়েছে।” রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, স্পিকার ওম বিড়লা বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডুকে সংসদের বেশির ভাগ অনুষ্ঠানেই নিয়মিত উপস্থিত থাকতে দেখা গেলেও রবিবার তাঁদের দেখা মেলেনি। রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, নেহরুকে নানা ভাবে অবমাননা করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। এই অনুপস্থিতি তাই বিস্ময়কর কিছু না। অনেকেই বলছেন, এ সব করে নিজেদের হীনমন্যতাই আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে বিজেপি।