(বাঁ দিকে) এই আবাসন থেকে ঝাঁপ দেন জ্যোতিষী। (ডান দিকে) জ্যোতিষী রাজবীর। ছবি: সংগৃহীত।
উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদে এক জ্যোতিষী এবং তাঁর মায়ের দেহ উদ্ধার হল। ১৪ তলা থেকে জ্যোতিষী ঝাঁপ দেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাঁর মায়ের দেহ উদ্ধার হয়েছে ঘরের ভেতর থেকেই। সেটি কম্বলে জড়ানো অবস্থায় ছিল। কিন্তু তাঁর মায়ের মৃত্যু হল কী ভাব তা নিয়েই সন্দেহ বাড়ছে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, বৃদ্ধার শরীরে কোনও বহিরাগত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ মার্চ। জ্যোতিষী যে আবাসনে থাকতেন, সেই আবাসনের নীচে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম রাজবীর। তাঁর পরিচিতদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজবীর তাঁর মায়ের দেহের সঙ্গে দু’দিন ঘরেই কাটিয়েছেন। পরে তিনি ঝাঁপ দেন। রাজবীর মাঝেমধ্যেই বলতেন, মায়ের যদি মৃত্যু হয়, তিনিও আর বাঁচবেন না। রাজবীর এবং তাঁর মায়ের মৃত্যুর মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মায়ের সঙ্গে গাজ়িয়াবাদে থাকতেন রাজবীর। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তান থাকলেও তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। তবে মৃত্যুর আগে রাজবীর তাঁর ফোনের পাসকোড স্ত্রীকে মেসেজ করে যান। সেই ফোন ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে, হরিয়ানার এক মহলিরা সঙ্গে রাজবীরের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিয়ে করার জন্য ওই মহিলা তাঁকে চাপ দিচ্ছিলেন।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, রাজবীরের বিপুল টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল। প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা দেনা ছিল তাঁর। তা ছাড়া, গত কয়েক বছর ধরে নানা আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন রাজবীর। কয়েক বছর আগে তাঁর বাবা এবং ভাইযের মৃত্যু হয়। তার পর থেকে মাকে নিয়েই থাকতেন রাজবীর। জ্যোতিষচর্চা করতেন।