(বাঁ দিকে) তরুণীর দেহ উদ্ধার। অভিযুক্ত প্রেমিক (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে সহপাঠী তথা প্রেমিকের ঘর থেকে উদ্ধার হল এমবিএ তরুণীর নগ্ন দেহ। গলায় দড়ির দাগের চিহ্ন মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তা থেকেই অনুমান শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। শুক্রবার তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, তরুণীর একটি অশ্লীল ভিডিয়ো কলেজের হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো হয়। সেখানে তরুণীর মুখ স্পষ্ট ছিল। আর তাঁর সঙ্গে থাকা যুবকের মুখ অস্পষ্ট করে রাখা হয়েছিল। কলেজের হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে ওই ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছিল তরুণীর মোবাইল থেকে। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে পড়তেই তাঁরা সেটি মুছে দেন। বিষয়টি জানানো হয় তরুণীর পরিবারকে। পুলিশের সন্দেহ, ভিডিয়োতে যে পুরুষ সঙ্গীকে দেখা গিয়েছে তরুণীর সঙ্গে, তিনি তাঁর সহপাঠী পীযূষ ধনোটিয়া। তাঁরও খোঁজ মিলছে না। আর এখান থেকেই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরের বাসিন্দা। তাঁর বাবার মুদির দোকান রয়েছে। এমবিএ পড়ার জন্য ইনদওরে এসেছিলেন। সেখানে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কলেজেই পরিচয় হয় তরুণীর সঙ্গে। তার পর তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার জন্মের শংসাপত্রের ত্রুটি শোধরানোর জন্য সাঁওয়ার রোডে বাবার সঙ্গে গিয়েছিলেন তরুণী। বাড়িতে ফিরে সন্ধ্যাবেলায় বেরিয়ে যান। বাড়িতে বলে যান, এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছেন। রাত ১১টার মধ্যে ফিরে আসবেন। কিন্তু আর ফেরেননি। ওই রাতেই তরুণীর অশ্লীল ভিডিয়ো কলেজের হোয়াট্সঅ্যাপে গ্রুপে শেয়ার করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তরুণীর পরিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু পাননি। ধনোটিয়ার ফোনও বন্ধ ছিল। তার পরই তরুণীর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। ধনোটিয়ার বাড়িতে যায় পুলিশ। কিন্তু তালা দেওয়া ছিল। শুক্রবার পাড়ার লোকেরা ধনোটিয়ার ঘর থেকে পচা গন্ধ পেতেই বাড়ির মালিককে জানান। তার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই তরুণীর দেহ দেখতে পায়। নগ্ন অবস্থায় পড়েছিল তাঁর দেহ। পায়ের মোজা দেখে তাঁর বাবা দেহ শনাক্ত করেন। ধনোটিয়ার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।