বায়ুসেনার বিমান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবতরণ। ছবি: পিটিআই।
৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর তৈরি করা একফালি রানওয়ে! শনিবার সকালে অসমের মোরানে সেখানেই অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস, ভারতীয় বায়ুসেনার দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক পরিবহণ বিমান। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোনও রাজ্যে এই প্রথম কোনও সড়কে বিমান উড়ান ও অবতরণক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শনিবার এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেছে।
শনিবার সকালে অসমের ডিব্রুগড়ের চাবুয়া বায়ুসেনাঘাঁটি থেকে সুপার হারকিউলিস বিমানে সওয়ার হন মোদী। মোরানে ৩৬ নম্বর জাতীয় সড়কে (নতুন নামকরণ অনুযায়ী ১২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক) সদ্যনির্মিত ৪.২ কিলোমিটারের এয়ারস্ট্রিপে ‘ফুলস্টপ ল্যান্ডিং’ করে বিমানটি। অবতরণের পরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং বায়ুসেনার আধিকারিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মোদী। রানওয়ে উদ্বোধন উপলক্ষে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দেখেন সুখোই, রাফাল, তেজসের যুদ্ধমহড়া। সমাজমাধ্যমে মোদী লিখেছেন, ‘‘মোরানের বহুমুখী রানওয়ে প্রতিরক্ষা, সরবরাহ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করবে।’’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চিনের ‘বিপদ’ মাথায় রেখেই আরও ঢেলে সাজানো হচ্ছে বায়ুসেনার ঘাঁটিগুলিকে। পাশাপাশি, বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে ‘বৃহত্তর পরিকাঠামো উন্নয়নে’র দিকে। সেই পরিকল্পনারই অঙ্গ হল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে জাতীয় সড়কের সুনির্দিষ্ট কিছু অংশ বেছে নিয়ে রানওয়ে নির্মাণ করা। সামরিক পরিভাষায় একে বলে ‘ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফেসিলিটি’ (ইএলএফ)। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা-সহ কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যেই ইএলএফ নির্মাণ করা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটিতে সামরিক পরিবহণ বিমানের পাশাপাশি যু্দ্ধবিমান অবতরণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মোরানের ইএলএফ-ও তেমনই। প্রসঙ্গত, আগামী এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরির সঙ্গেই অসমে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা।