Bombay High Court on Single Mother

‘ধর্ষক পিতার পরিচয় বইতে হবে না!’ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় কুঠারাঘাত আদালতের, অভিভাবকত্ব শুধু মাকে

সম্প্রতি বম্বে হাই কোর্টের অওরঙ্গাবাদ বেঞ্চে একটি মামলা উঠেছিল। মামলাকারী একজন ধর্ষিতা। ধর্ষকের শাস্তি হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণে সন্তানসম্ভবা হয়ে যাওয়া যুবতী ভ্রূণ নষ্ট করেননি। গর্ভস্থ সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৮
Share:

১২ বছরের মেয়ের একক অভিভাবকত্ব পেলেন মা। স্বীকৃতি দিল আদালত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পুরো সমাজ-সংসার একদিকে। অন্য দিকে এক মা আর তাঁর ১২ বছরের মেয়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন, মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে নথিতে বাবার নাম ব্যবহার করতেই হবে। কিন্তু নারাজ ছিলেন মা। শেষমেশ একা মায়ের লড়াই পেল স্বীকৃতি। বম্বে হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, ১২ বছরের মেয়েকে তার ধর্ষক পিতার পরিচয় বহন করতে হবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানকে ‘পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ফসল’ বলে সমালোচনা করলেন বিচারপতিরা।

Advertisement

সম্প্রতি বম্বে হাই কোর্টের অওরঙ্গাবাদ বেঞ্চে একটি মামলা উঠেছিল। মামলাকারী একজন ধর্ষিতা। ধর্ষকের শাস্তি হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণে সন্তানসম্ভবা হয়ে যাওয়া যুবতী ভ্রূণ নষ্ট করেননি। গর্ভস্থ সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন। একাহাতে ১২ বছর ধরে তাকে বড় করছেন। কিন্তু মেয়েকে স্কুলে দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, তাঁদের রেকর্ডে মেয়ের বাবার নাম রাখতেই হবে। কিন্তু বম্বে হাই কোর্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের ‘কঠোর’ এবং ‘পিতৃতান্ত্রিক নিয়ম’-এর সমালোচনা করে জানিয়েছে, নাবালিকাকে তার ধর্ষক পিতার পরিচয় বহন করতে হবে না। মা-ই তার একক অভিভাবকত্ব পাবেন। মেয়েকে কেবল মায়ের পদবি এবং জাত উল্লেখ করারও অনুমতি দেয় মহারাষ্ট্রের উচ্চ আদালত।

বিচারপতি বিভা কে কঙ্কনওয়াড়ির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‘শিশুদের নাগরিক পরিচয়ের জন্য এক একক মাকে পিতামাতা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া কোনও দাতব্য কাজ নয়। বরং এটি সাংবিধানিক আনুগত্যের প্রকাশ।’’ আদালতের নির্দেশ, মেয়ের অভিভাবক হিসাবে কেবল তার মা-ই মর্যাদা পাবেন। মায়ের সম্প্রদায় অনুযায়ী, ‘জাতি’-র জায়গায় ‘মরাঠা’ না-লিখে ‘তফসিলি জাতিভুক্ত’ হিসাবে সরকারি নথিপত্রে পরিচয় নথিভুক্ত করতে পারবে মেয়ে।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালত বলেছে, রাষ্ট্র কোনও শিশুকে বাবার পরিচয় বহন করে বাধ্য করতে পারে না। বিশেষত, শিশু যখন একক মায়ের দ্বারা লালিত-পালিত হয় এবং মায়ের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত বাবার কাছ থেকে স্থায়ী ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকে।বিচারপতিরা এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, মেয়েটির জৈবিক পিতা ২০২২ সালে একটি সমঝোতার মাধ্যমে সন্তানের অভিভাবকত্ব ত্যাগ করেছেন। তাই সন্তানের উপর একচেটিয়া হেফাজত মায়ের। তার পালন, শিক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব মা নিজের কাঁধে নিয়েছেন. বাবা কখনও কোনও আইনি অথবা সামাজিক অর্থে সন্তানের জীবনের অংশ হননি। তা-হলে শুধু খাতায়-কলমে কেন তিনি অভিভাবক থাকবেন?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement