New Bill

সিএপিএফ বিল পেশ আজ, প্রবীণদের ক্ষোভ

বর্তমানে আধাসেনা বাহিনীতে (সিআরপিএফ, বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপি, সিআইএসএফ) ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদের ২০ শতাংশ ও ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) পদের ৫০ শতাংশ আইপিএস অফিসারদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:২১
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

সব ঠিক থাকলে আগামিকাল রাজ্যসভায় সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিএপিএফ), জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিল পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অভিযোগ, ওই বিলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে বাহিনীর শীর্ষ পদে আইপিএস অফিসারদের নিয়োগকে নিশ্চিত করা হয়েছে। উপেক্ষা করা হয়েছে আধা সেনবাহিনীর ক্যাডারদের।

বর্তমানে আধাসেনা বাহিনীতে (সিআরপিএফ, বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপি, সিআইএসএফ) ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) পদের ২০ শতাংশ ও ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) পদের ৫০ শতাংশ আইপিএস অফিসারদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। নতুন বিলে সিএপিএফ বাহিনীর মোট ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) পর্যায়ের ৫০ শতাংশ পদ ও অতিরিক্ত ডিজি পর্যায়ের ৬৭ শতাংশ পদ এবং বিশেষ ডিজি পদ ও ডিজি পদে আইপিএস অফিসারদের নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। যা নিয়েই মূলত আপত্তি রয়েছে আধা সামরিক বাহিনীতে যে সব অফিসারেরা সরাসরি এই শ্রেণিতে যোগ দেন, তাঁদের। তাঁদের বহু দিনের ক্ষোভ, যোগ্যতা সত্ত্বেও তাঁরা বাহিনীর শীর্ষ পদে (ডিজি) বসতে পারেন না। খুব বেশি হলে অতিরিক্ত ডিজি পদ থেকেই অবসর নিতে হয়। পরিবর্তে ডেপুটেশনে আসা আইপিএস অফিসারেরা শীর্ষ পদে বসেন। এই ছবিটি পাল্টাতে এক দশক আগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিএপিএফ-র ক্যাডারেরা। সুপ্রিম কোর্ট গত বছর একটি রায়ে ওই নিয়ম পরিবর্তন করে বাহিনীর নিজস্ব ক্যাডারদের শীর্ষ পদে বসানোয় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে। পাশাপাশি, বাহিনীতে ধীরে ধীরে আইপিএসদের নিয়োগ কমিয়ে আনার পক্ষে মত প্রকাশ করে।

সিএপিএফদের প্রাক্তন অফিসারদের মতে, বর্তমান সরকার যে বিল এনেছে, তা ওই নির্দেশের পরিপন্থী। তাঁদের মতে, আধা সামরিক বাহিনীতে আইপিএসদের শীর্ষ পদে বসাকে আইনি ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতেই ওই বিল আনা হয়েছে। তাই ওই বিল পেশ হওয়ার পরে বিলটিকে সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি তুলেছেন আধা সেনার প্রাক্তন কর্তারা। তাঁদের মতে, বাহিনীর ‘এ’ শ্রেণির ক্যাডারে যে প্রায় ১২-১৩ হাজার অফিসার রয়েছেন, তাঁদের সামনে শীর্ষ পদে বসার একটি আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই বিলের ফলে তাঁরা মুষড়ে পড়বেন। বাহিনীর মনোবল ধাক্কা খাবে।

সিআরপিএফের প্রাক্তন অতিরিক্ত ডিজি এইচ আর সিংহের কথায়, ‘‘আদালত যখন বাহিনীর অফিসারদের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা হলে তা রূপায়ণ করতে সমস্যা কোথায়?’’ বিলে বলা হয়েছে, আধা সামরিক বাহিনী রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে এই বাহিনীগুলির শীর্ষ পদে আইপিএস অফিসারদের নিয়োগ অপরিহার্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুক্তি, আইপিএস অফিসারদের রাজ্য প্রশাসনে থেকে আইনশৃঙ্খলা সরাসরি পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা থাকে। সেই অভিজ্ঞতা বাহিনীর অফিসারদের থাকে না।

তা ছাড়া সংবিধানের ৩১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইপিএস একটি সর্বভারতীয় পরিষেবা ও ঐতিহাসিক ভাবে আইপিএস অফিসারেরার আধা সেনার একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিলে আরও বলা হয়েছে, আধা সামরিক বাহিনী সম্পর্কিত আইনগুলি সময়ে সময়ে তৈরি হওয়ায় একটি সমন্বিত আইনের অভাব লক্ষ করা গিয়েছে। এর ফলে পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তাতে কার্যকরী ও প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলা এড়াতেই ওই বিলটি আনা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন