ছবি: সংগৃহীত।
রাতে খাওয়াদাওয়া করে নিশ্চিন্তেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তরুণ। শরীরে কোনও রকম অসুস্থতা ছিল না। কিন্তু সকালে উঠে হাত-পায়ের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন তিনি। চামড়ার রং যে গাঢ় উজ্জ্বল নীল বর্ণ ধারণ করেছে! কী ভাবে কী ঘটল তা বুঝতে না পেরে পড়িমড়ি করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটলেন তরুণ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ৪২ বছরের তরুণের নাম টমি লিঞ্চ। ব্রিটেনের বাসিন্দা তিনি। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হঠাৎ তিনি দেখেন, চামড়ার রং গাঢ় উজ্জ্বল নীলে পরিণত হয়েছে। শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ টম আচমকা এই ধরনের ‘অসুস্থতার’ কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
তাঁর বন্ধু পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। বন্ধুর তৎপরতায় টমকে নিকটবর্তী হাসপাতালের আপৎকালীন বিভাগে ভর্তি করানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরাও এই অদ্ভুত ‘রোগের’ কথা শুনে চমকে ওঠেন। কোনও বিরল ত্বকের অসুখ করেছে ভেবে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সুবিধার জন্য অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু স্বাস্থ্যপরীক্ষার ফলাফলে কিছুই ধরা পড়ে না। তার পর চিকিৎসকেরা ‘অজানা অসুখের’ আসল কারণ খুঁজে পেলেন। টম জানান, দিন কয়েক আগে তাঁর বন্ধু ডেল গাঢ় নীল রঙের একটি চাদর উপহার দিয়েছিলেন। সেই চাদর না কেচেই বিছানায় পেতে দিয়েছিলেন টম। রাতভর আকাচা চাদরে শুয়ে থাকার ফলে চাদরের নীল রং লেগে যায় টমের হাতে-পায়ে। নেপথ্যকারণ উদ্ধারের পর হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক এবং কর্মীরা হাসাহাসি শুরু করেন। টম নিজেও হেসে কুটিপাটি হন।
বাড়ি ফেরার পর সব কাজ সারার আগে চাদরটি কাচতে বসেন তিনি। তবে, টমের চামড়ার রং স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। টমের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভাল ভাবে স্নান করার পর নীল রং উঠেছে। এই সাত দিন ধরে স্নানের সময় বাথরুমের মেঝেও নীল রঙে ভরে গিয়েছিল বলে জানান টম। মজা করে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আমায় দেখে মনে হচ্ছিল, জনপ্রিয় হলিউড ছবি ‘অবতার’-এর কোনও চরিত্র হয়ে উঠেছি।’’