তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। —ফাইল চিত্র।
তেলঙ্গানায় সাতটি পুরনিগম এবং ১১৬টি পুরসভার ভোটে বিপুল জয়ের পথে সে রাজ্যের শাসকদল কংগ্রেস। চমকপ্রদ ভাবে লোকসভা নির্বাচনে শূন্য পাওয়া ভার়ত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপি।
গত বুধবার তেলঙ্গানার ১১৬টি পুরসভার ২৫৮২টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছিল। শুক্রবার থেকে শুরু হয় গণনা। শনিবার সে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ১৩৪৬টি ওয়ার্ডে। ১১৬টি পুরসভার মধ্যে ৮৩টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তারা। বিপুল জয়ের জন্য তেলঙ্গানার জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং উপমুখ্যমন্ত্রী মল্লু ভট্টি বিক্রমাঙ্ক। পুরভোটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের (কেসিআর নামে যিনি পরিচিত) দল বিআরএসের প্রার্থীরা জিতেছেন ৭২৩টি ওয়ার্ডে। বিজেপির ঝুলিতে মাত্র ২৬১টি ওয়ার্ড! নির্দল এবং অন্যেরা ২৫১টি আসনে জিতেছেন। তেলঙ্গানা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৩০টি পুরসভায় ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হবেন নির্দলেরা!
সাতটি পুরনিগমের মধ্যে নলগোন্ডা, মেহবুবনগর-সহ চারটি সরাসরি গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। সহযোগী সিপিআই-কে নিয়ে কোঠাগুড়েম পুরনিগমের মেয়র পদও দখল করতে চলেছে কংগ্রেস। অন্য দিকে, ত্রিশঙ্কু নিজ়ামাবাদ এবং করিমনগরে বৃহত্তম দল হয়েছে বিজেপি। সামগ্রিক ভাবে ২৯৯৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ১৫৩৭, বিআরএস ৭৭২ এবং বিজেপি ৩২৬টিতে জিতেছে। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ (মিম) ৬৬টি ওয়ার্ডে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে কেসিআরকে ক্ষমতাচ্যুত করে হায়দরাবাদের কুর্সির দখল নিয়েছিল কংগ্রেস। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ভাঙন-পর্ব চলেছে বিআরএস-এ। কেসিআর-কন্যা কবিতাও পারিবারিক বিবাদের জেরে বহিষ্কৃত হন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তেলঙ্গানার ১৬টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস এবং বিজেপি দু’দলই আটটি করে জিতেছিল। হায়দরাবাদে জয়ী হয়েছিলেন ‘মিম’ প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। কেসিআরের ঝুলি ছিল শূন্য।