শিবু সোরেন। — ফাইল চিত্র।
দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনের মুখে নরেন্দ্র মোদী সরকার চৌধরি চরণ সিংহকে মরণোত্তর ভারতরত্ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। তার পরেই তাঁর পুত্র, রাষ্ট্রীয় লোক দলের নেতা জয়ন্ত চৌধরি বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে এনডিএ-তে যোগ দেন।এ বার ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শিবু সোরেনকে ভারতরত্ন দেওয়ার বিনিময়ে বিজেপি কি তাঁর পুত্র হেমন্ত সোরেনকে এনডিএ-তে টানার চেষ্টা করছিল? প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে রবিবার পদ্ম-সম্মান ঘোষণার পরে রাজধানী দিল্লিতে প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধীদের জোট ইন্ডিয়া থেকে কি আরও এক শরিক দল বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছে?
রবিবার প্রয়াত শিবু সোরেনকে মরণোত্তর পদ্মভূষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। পদ্মভূষণ দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। ভারতরত্ন ও পদ্মবিভূষণের পরে। শিবুর পুত্র ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন, শিবু সোরেন দেশের মানুষের কাছে ভারতরত্ন হয়ে থাকবেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার অভিযোগ, প্রয়াত শিবু সোরেনকে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত ছিল। মোর্চার রাজ্যসভা সাংসদ মহুয়া মাঝি বলেন, “আমরা ভারতরত্নের দাবি করেছিলাম। কিন্তু তাঁকে পদ্মভূষণ দেওয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ। আমরা চাই, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক।”
কংগ্রেস শিবিরে প্রশ্ন উঠেছে, হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে বিজেপির কি এ বিষয়ে দর কষাকষি চলছিল? ঝাড়খণ্ডে এখন হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বে জেএমএম ও কংগ্রেসের জোট সরকার চলছে। গত বছরের শেষে সেই জোটে বিবাদ তৈরি হয়েছিল। বিহারের নির্বাচনের সময়ও আসন সমঝোতা নিয়ে আরজেডি-কংগ্রেসের সঙ্গে জেএমএমের মনোমালিন্য হয়। তার পরে কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করেন। সে সময় কংগ্রেস দাবি করেছিল, বিবাদ মিটে গিয়েছে। কিন্তু এখন কংগ্রেসের আশঙ্কা, হেমন্ত সোরেন বিজেপির হাত ধরলে কংগ্রেস আরও একটি রাজ্যে শরিক দল হিসেবেও ক্ষমতা থেকে সরে যাবে। সর্বোপরি জেএমএম বিজেপির সঙ্গে জোট করলে ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেসের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দল ভেঙে বেরিয়ে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অতীতে শিবু সোরেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি ঘুষ নিয়ে পি ভি নরসিংহ রাওয়ের সরকারকে আস্থা ভোটে জিতিয়ে দিয়েছিলেন। এখন কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলেও অতীতে জেএমএম বিজেপির সঙ্গে জোট করেছে। কংগ্রেস নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হেমন্ত সোরেনকে দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জেলে পুরেছিল। সে জন্য তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফাও দিতে হয়। বিজেপি তাঁর দল ভাঙিয়েছে। সে সময় গান্ধী পরিবার তথা কংগ্রেসই হেমন্তের পাশে ছিল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে