চিকিৎসকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট।
দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা চার থেকে সাতে পৌঁছে গেল মাত্র ২৪ ঘণ্টায়। আজ মুম্বই, পটনা ও সুরাতে মারা গেলেন তিন রোগী।
ভারতে করোনায় এক দিনে একাধিক মৃত্যু এই প্রথম। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশ জুড়ে সব মিলিয়ে মৃত ৭ জন এবং সুস্থ হয়ে ওঠা ২৪ জনকে ধরলে করোনার মোট সংক্রমণ এখন ৩৬০টি। আইসিএমআরের হিসেবে অবশ্য সংখ্যাটা ৩৯৬।
বিহারে আজ প্রথম কোনও করোনা-রোগীর মৃত্যু হল। ৩৮ বছরের এক যুবক সম্প্রতি কাতার থেকে কলকাতা হয়ে বিহারে ফেরেন। মুঙ্গেরে নিজের গ্রামেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির অসুখে ভুগছিলেন ওই যুবক। পটনার এমসে ভর্তি করার পরে তাঁর লালারসের নমুনা রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। রিপোর্ট আসে যুবকের মৃত্যুর পরে। দেখা যায়, যুবকের দেহে কোভিড-১৯ ছিল। করোনা-আক্রান্ত আরও এক মহিলাও পটনায় চিকিৎসাধীন। তাঁর ছেলে সম্প্রতি ইটালি থেকে ফিরেছিলেন।
আরও পড়ুন: দল বেঁধে কাঁসর-ঘণ্টা পার্টি, প্রধানমন্ত্রীর নামে জয়ধ্বনি
মহারাষ্ট্রে তথা মুম্বইয়ে এই নিয়ে করোনায় মৃত্যু হল দু’জনের। এইচ এন রিলায়্যান্স হাসপাতালে মারা যান ৬৩ বছরের এক বৃদ্ধ। বৃহন্মুম্বই পুরসভা জানিয়েছে, বৃদ্ধের ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সমস্যা ছিল। সম্প্রতি প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মহারাষ্ট্রে মোট করোনা-সংক্রমণের সংখ্যা অন্তত ৬৭। পুণেতে আজ ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে।
গুজরাতেও এই প্রথম মৃত্যু ঘটাল করোনা। ৬৭ বছরের এক বৃদ্ধ কিডনি ও শ্বাসের সমস্যা নিয়ে ১৭ মার্চ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ২১ মার্চ তাঁর করোনা-পরীক্ষার পজ়িটিভ রিপোর্ট আসে। পুণের করোনা-আক্রান্ত মহিলার মতো এই বৃদ্ধেরও বিদেশযাত্রার কোনও রেকর্ড এখনও পাননি রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা। তাই কী ভাবে তিনি সংক্রমিত হলেন, তা ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে। বৃদ্ধের পরিবার ও তাঁদের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন এমন সবাইকে কোয়রান্টিনে রাখা হয়েছে। মুম্বইয়ে মৃত বৃদ্ধের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক অতীতে বিদেশে যাওয়া বা করোনা-রোগীর সংস্পর্শে আসার খতিয়ান মেলেনি। এ সবই ভয় বাড়িয়েছে গোষ্ঠী-সংক্রমণ নিয়ে।
গুজরাতে যে ১৮ জনের করোনা-সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাঁদের মধ্যে এই বৃদ্ধ-সহ তিন জন সুরাতেরই বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চের রাজ্যসভা নির্বাচন পিছিয়ে দিতে আজ নির্বাচন কমিশনকে আর্জি জানিয়েছে গুজরাত সরকার। রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন চলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত হবে আগামিকাল।
আইসিএমআরের হিসেবে দেশ জুড়ে সংক্রমিতের সংখ্যা আজ বেড়েছে ৮১ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সারা দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে মোট ১৫ লক্ষ ১৭ হাজার ৩২৭ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। আধাসেনার সমস্ত বাহিনীকে বলা হয়েছে, ৫ এপ্রিল পর্যন্ত যারা যেখানে রয়েছে, সেখানেই থাকতে। প্রত্যেক জওয়ানকে ফর্ম ভরে জানাতে হচ্ছে, পরিবারের কেউ সম্প্রতি বিদেশে গিয়েছিলেন কি না।
কেরলে আজ ১৫ জনের দেহে কোভিড-১৯ পাওয়া গিয়েছে। সে রাজ্যে মোট সংক্রমণ ৫২টি। দিল্লিতে ২৯, উত্তরপ্রদেশে ২৭। জম্মু-কাশ্মীরে আক্রান্ত ৪, নজরবন্দি প্রায় ৪০০০।