এক জনের যাবজ্জীবন

জিগীষা খুনে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড

জিগীষা ঘোষ হত্যা মামলায় তিন জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল গত ১৪ জুলাই। সোমবার তাদের মধ্যে দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিল দিল্লির এক আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের নাম রবি কপূর এবং অমিত শুক্ল।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০১৬ ০৩:০৪
Share:

জিগীষা ঘোষ

জিগীষা ঘোষ হত্যা মামলায় তিন জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল গত ১৪ জুলাই। সোমবার তাদের মধ্যে দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিল দিল্লির এক আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের নাম রবি কপূর এবং অমিত শুক্ল। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম বলজিৎ মালিক। সাজা ঘোষণার পরে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সন্দীপ যাদব বলেন, ‘‘যে নৃশংসতার সঙ্গে জিগীষা ঘোষকে খুন করা হয়েছে, তা বিরলতম ঘটনা। মেয়েদের উপর অপরাধের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এমন অপরাধীদের ক্ষমার চোখে দেখা হলে সমাজের কাছে ভুল বার্তা যাবে।’’

Advertisement

এই মামলার প্রতিটি শুনানিতে আদালতে হাজির থাকতেন জিগীষার মা সবিতা ঘোষ। এ দিনও স্বামীর সঙ্গে আদালতে হাজির ছিলেন তিনি। শাস্তি ঘোষণার পরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৫৮ বছরের সবিতা। বলেন, ‘‘জিগীষা মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী ছিলেন। সম্ভবত আজকের এই রায়ের সঙ্গেও তিনি একমত হতে পারতেন না। কিন্তু এই অপরাধীরা গোটা পরিবারটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এরা মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কী পেতে পারে।’’ সবিতা আরও বলেন, ‘‘আমি কখনওই ভগবানে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু বিচার চলাকালীন সব সময় ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি যেন সুবিচার পাই। অবশেষে সুবিচার পেলাম।’’

নয়ডার একটি কল সেন্টারে চাকরি করতেন দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত বিহার এলাকার বাসিন্দা ২৮ বছরের জিগীষা। ২০০৯ সালের ১৮ মার্চ মাঝরাতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। অফিসের গাড়ি জিগীষাকে তাঁর বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়। এর পরেই রবি, অমিত এবং বলজিৎ তাঁকে অপহরণ করে। বন্দুক দেখিয়ে তারা জিগীষাকে গাড়িতে তুলে নেয়। জিগীষার সমস্ত কিছু ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। জিগীষার এটিএম কার্ডও কেড়ে নিয়ে জোর করে পিন নম্বর জেনে নেয় ওই তিন জন। তার পর খুন করা হয় কল সেন্টারের ওই কর্মীকে। তিন দিন বাদে হরিয়ানার সুরজকুণ্ড থেকে উদ্ধার হয় জিগীষার মৃতদেহ। জিগীষার এটিএম কার্ড দিয়ে টাকা তোলার সময় এবং শপিং কমপ্লেক্সে সেই টাকা দিয়ে কেনাকাটার সময় তিন দুষ্কৃতীর ছবি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। তা দেখেই পুলিশ রবি, অমিত এবং বলজিৎকে গ্রেফতার করে। শুধু জিগীষা নয়, ২০০৮ সালে এক মহিলা টিভি সাংবাদিক খুনের ঘটনাতেও অভিযুক্ত এই তিন জন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement