দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। —ফাইল চিত্র।
সরকারি দফতরগুলির জন্য নির্দেশিকা আগেই জারি হয়েছে। এ বার জ্বালানি বাঁচানোর জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এ গিয়ে আসতে বলল দিল্লি সরকার। দিল্লির সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সপ্তাহে দু’দিন করে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করানোর পরামর্শ দিয়েছে দিল্লির বিজেপি সরকার।
জ্বালানির অপচয় না-করার জন্য কয়েক দিন আগেই দেশবাসীকে অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য তিনি নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পর দিল্লি সরকার ইতিমধ্যে সেখানে সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে দু’দিন করে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। কর্মীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের বদলে গণপরিবহণ ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। এ বার জ্বালানি বাঁচাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও একই পথে এগোনোর অনুরোধ করল দিল্লির সরকার।
দিল্লির সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের সপ্তাহে দু’দিন করে বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করার অনুরোধ করেছে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের সরকার। অফিসের সময়েও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার জন্য বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বেসরকারি সংস্থার কর্মীদেরও ‘কারপুল’ কিংবা গণপরিবহণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দিল্লির শ্রম দফতর। তবে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ কিছু জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্রকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর আর্জির পরে চলতি সপ্তাহেই দিল্লির সরকার ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ নামে ৯০ দিনের একটি জ্বালানি সাশ্রয় কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্বে শুধু সরকারি কর্মীদের জন্যই ওই নির্দেশিকা ছিল। এ বার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সেই উদ্যোগে শামিল হতে আহ্বান জানাল দিল্লির সরকার।
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। কারণ ভারতে যে পরিমাণ পেট্রোপণ্যের চাহিদা রয়েছে, তার বেশির ভাগই আমদানি করা হয় অন্য দেশ থেকে। এ অবস্থায় জ্বালানির খরচ কমিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার সুরক্ষিত রাখতে সকল দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।