Assam CAA

সিএএ-তে নাগরিকত্ব ‘বিদেশের’ দীপালির

শিলচরের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল ধলাইয়ের দীপালিকে বিদেশি বলে ঘোষণা করেছিল। মামলার শুরু ২০১৩ সালের ২ জুলাই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল তাঁকে বিদেশি বলে ঘোষণা করেছিল। বিতাড়িত করতে বলেছিল দেশ থেকে। পাঠানো হয়েছিল ডিটেনশন ক্যাম্পে। কিন্তু তার মধ্যেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-তে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করে রেখেছিলেন দীপালি দাস। আজ সেই আইনেই ভারতের নাগরিকত্ব পেলেন তিনি। তাঁর আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, ভারতে এই প্রথম বার বিদেশি বলে ঘোষিত হওয়ার পরেও কেউ সিএএ-তে নাগরিকত্ব পেলেন। ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার ফলে ট্রাইবুনালের দেওয়া দীপালিকে বিতাড়নের নির্দেশ স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার কথা।

শিলচরের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল ধলাইয়ের দীপালিকে বিদেশি বলে ঘোষণা করেছিল। মামলার শুরু ২০১৩ সালের ২ জুলাই। অসম পুলিশের সীমান্ত শাখার সাব-ইন্সপেক্টর আজমল হুসেন লস্কর ফরেনার্স ট্রাইবুনালে একটি ‘রেফারেন্স’ পাঠিয়ে দাবি করেন, দীপালি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের কোনো বৈধ নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই রিপোর্টে বাংলাদেশের সিলেট জেলার বানিয়াচং এলাকার পরানি গ্রামের একটি ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলের মা দীপালিকে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল বিদেশি ঘোষণা করে। এর পরে ২০১৯ সালের ১০ মে থেকে ২০২১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত দীপালিকে শিলচর ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছিল। এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শিলচরের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল তাদের রায়ে বলে, দীপালি ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পরে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তাই ভারতের ভূখণ্ডে বসবাসের কোনও অধিকার তাঁর নেই। দীপালিকে দেশ থেকে বিতাড়ন করার পক্ষেই ট্রাইবুনাল মত দেয়। দীপালির গতিবিধিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাছাড় জেলার পুলিশ সুপার (সীমান্ত)-কে নির্দেশ দেয় ট্রাইবুনাল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইআরও-কে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

এ দিকে দীপালি গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সিএএ-তে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, ১৯৮৭ সালের ৭ জানুয়ারি অভিমন্যু দাসের সঙ্গে বাংলাদেশে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি স্বামীর সঙ্গে ১৯৮৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই আজ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের অধীনে তাঁকে নাগরিকত্বের সনদ প্রদান করা হয়েছে।

এই দীর্ঘ আইনি লড়াইতে দীপালিকে সহায়তা করেছেন আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব, আইনজীবী দেবস্মিতা সোম এবং সমাজকর্মী কমল চক্রবর্তী। ধর্মানন্দ জানান, বিদেশি ঘোষিত হওয়া এবং ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকার পরেও সিএএ-এর অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার ঘটনা ‘নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক’।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন