ডিএমকে নেতা শিবাজি কৃষ্ণমূর্তি। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যপাল এবং বিরোধীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ। তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-র এক নেতাকে। শিবাজি কৃষ্ণমূর্তি নামের ওই ডিএমকে নেতা প্রকাশ্য জনসভা থেকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবিকে ‘কাশ্মীরে চলে যাওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের এগমোর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ওই ডিএমকে নেতাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। কৃষ্ণমূর্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
২০২৩ সালে তামিলনাড়ু বিধানসভায় নিজের প্রারম্ভিক ভাষণে সরকার অনুমোদিত বেশ কিছু অংশ না-পড়ে বক্তৃতা শেষ করেন রাজ্যপাল। ওই বছরেরই ১৬ জুন তামিলনাড়ুর এরুক্কানচেরি এলাকার একটি সভায় কৃষ্ণমূর্তি এই প্রসঙ্গে রাজ্যপালের কঠোর সমালোচনা করেন। বলেন, “উনি (রাজ্যপাল) যদি অম্বেডকরের নাম নিতে না-পারেন, তা হলে তাঁর কাশ্মীরে চলে যাওয়া উচিত। তা হলে চরমপন্থীরা তাঁকে গুলি করে থামিয়ে দেবে।”
কৃষ্ণমূর্তির ওই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আগেও একাধিক বার বিতর্কিত মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন কৃষ্ণমূর্তি। বিতর্কের জেরে ওই নেতাকে আগে এক বার সাসপেন্ড করেছিল ডিএমকে। পরে অবশ্য তাঁকে দলের মূলস্রোতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। দলের মূলস্রোতে প্রত্যাবর্তন করেই রাজ্যপালকে নিয়ে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। জয়ললিতার দল এডিএমকে-র শীর্ষনেতা কে পলানিস্বামীও, তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মন্ত্রী ডি জয়কুমার, বিজেপি নেতা কে অন্নামালাইয়ের বিরুদ্ধেও বিতর্কিত মন্তবয করায় অভিযুক্ত কৃষ্ণমূর্তি।
রাজ্যপালকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর ২০২৩ সালের জুন মাসেই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল তামিলনাড়ুর পুলিশ। প্রায় তিন বছর মামলা চলার পর তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে নিম্ন আদালত। কৃষ্ণমূর্তির আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে জানান, পুলিশ তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আদালত অবশ্য জানিয়ে দেয়, ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট, কৃষ্ণমূর্তির বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।