Crude Oil

ইরান নয়, ভেনেজ়ুয়েলার থেকে তেল কিনবে ভারত! এ বার নিজেই মুখ খুললেন ট্রাম্প

শুধু ভারত নয়, চিনকেও একই বন্ধনীতে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘চিন আসুক, স্বাগত জানাচ্ছি। আমি চাই তেল নিয়ে একটা চুক্তি করুক তারা।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৮
Share:

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে এমনিতেই ভারতের উপর রুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘শাস্তি’ হিসাবে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও চাপিয়েছেন তিনি। তবে বিগত বেশ কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, রাশিয়া থেকে ভারত আর তেল কিনবে না! বিকল্প হিসাবে ভেনেজ়ুয়েলার নাম প্রস্তাব করেছে আমেরিকা। রাশিয়ার পর এ বার ইরানের তেলের বাজারেও রাশ টানতে চাইছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরান থেকে নয়, ভারত এখন থেকে তেল কিনবে ভেনেজ়ুয়েলার কাছে থেকে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে না ভারত! যদিও ট্রাম্পের দাবি নিয়ে ভারত এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

Advertisement

সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরানের থেকে তেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন। শুধু ভারত নয়, একই বন্ধনীতে রেখেছেন চিনকেও। তিনি বলেন, ‘‘চিন আসুক, স্বাগত জানাচ্ছি। আমি চাই তেল নিয়ে একটা চুক্তি করুক তারা।’’

চিনের পরই ভারতের কথা শোনা যায় ট্রাম্পের মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ‘‘ভারতও আসছে। ইরানের পরিবর্তে ভেনেজ়ুয়েলার থেকে তেল কিনবে তারা। আমরা ইতিমধ্যেই চুক্তির বিষয়ে একটা ধারণা করে ফেলেছি।’’ তার পরেই ট্রাম্প বুঝিয়ে দেন, তিনিই এখন ভেনেজ়ুয়েলার ‘সর্বময় কর্তা’। তিনিই ডেলসি রদ্রিগেজ়কে ভেনেজ়ুয়েলায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব সামলানোর অনুমতি দিয়েছেন।

Advertisement

বহু দিন ধরেই ভেনেজ়ুয়েলার তৈলভান্ডারের দিকে নজর ছিল আমেরিকার। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকায় তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সেই স্বপ্ন অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে। ভেনেজ়ুয়েলার তেলের ভান্ডারে ‘অধিকার’ দেখাচ্ছে আমেরিকা। অনেকের মতে, ট্রাম্প চান ভেনেজ়ুয়েলার তেল বিক্রি করে মুনাফা করতে। সেই কারণে ভারত-সহ অন্য দেশগুলিকে ভেনেজ়ুয়েলার তেল বিক্রি করতে ‘চাপ’ দিচ্ছেন ট্রাম্প। দিন দুয়েক আগে সংবাদসংস্থা রয়টার্স তিনটি সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছিল, আমেরিকা ভারতকে ভেনেজ়ুয়েলার তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে।

ভেনেজ়ুয়েলার থেকে ভারত তেল কিনবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত শুক্রবার রদ্রিগেজ়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। জ্বালানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য— নানা বিষয়ে কথা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার। ওই ফোনালাপের পর সমাজমাধ্যমের পোস্টে মোদী লেখেন, ‘‘আমরা সকল ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারি আরও গভীর এবং সম্প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছি। আগামী দিনে ভারত এবং ভেনেজ়ুয়েলার সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছোবে।’’

যদিও একটা সময় ভেনেজ়ুয়েলার থেকে তেল কেনার কারণেই ট্রাম্পের ‘রোষের কবলে’ পড়তে হয়েছিল ভারতকে। ২০২৫ সালের মার্চে মাদুরোকে শিক্ষা দিতে তাদের ক্রেতা বিভিন্ন দেশকে চাপ দিয়েছিল আমেরিকা। ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক চাপানোর অন্যতম এক কারণ ছিল সেটাই। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির চাকা ঘুরেছে। মাদুরো এখন আমেরিকা জেলে বন্দি। বিশ্বের বৃহত্তম তৈলভান্ডার ভেনেজ়ুয়েলার অফুরন্ত সম্পদ এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। তাই এখন সেই তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লির কাছে নানা ভাবে প্রস্তাব দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement