এই গাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় তিন জনরে দেহ। ছবি: সংগৃহীত।
দিল্লির পীরাগঢ়ী এলাকায় উড়ালপুলের উপর গাড়িতে তিন জনের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক ‘বাবা’কে ঘিরে রহস্য বেড়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে ‘বাবা’র বেশে এক ব্যক্তিকে ওই গাড়িতে দেখা গিয়েছে। তার পরই গাড়ির ভিতর থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়। এখন এই রহস্যময় ‘বাবা’র খোঁজেই তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ‘বাবা’র কী সম্পর্ক তা-ও খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর ৩টে ৫০ মিনিটে তাদের কাছে খবর আসে পীরাগঢ়ী উড়ালপুলে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাড়ির ভিতরে তিন জন রয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কোনও সাড়াশব্দ দিচ্ছেন না। খবর পেয়েই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। গাড়ির দরজা খুলে দেখা যায় সওয়ারিরা সকলেই মৃত। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির দরজা লক করা ছিল। ৫০ মিনিটের মতো গাড়িটি ওই উড়ালপুলেই দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু ব্যস্ত উড়ালপুলে একটি গাড়ি দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে, গাড়ির ভিতরে সওয়ারিও ছিল, তার পরেও কেন কারও নজরে পড়ল না? এই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে পুলিশকে।
পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, উড়ালপুলের সিসিটিভি খতিয়ে দেখা হয়েছে। তখন দেখা গিয়েছে, গাড়িতে তিন জন নন, চার জন ছিলেন। চতুর্থ ব্যক্তি ‘বাবা’র বেশে ছিলেন। এখন তাঁকে ঘিরেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তিন জনের মৃত্যুতে ওই ব্যক্তির কোনও হাত রয়েছে কি না, সেটাও তদন্ত করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ওই ব্যক্তি কে, তাঁর আসল পরিচয়ই বা কী, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং এক জন মহিলা। তাঁদের নাম রণধীর (৭৬)। শিবনরেশ (৪৭) এবং লক্ষ্মী দেবী (৪০)। রণধীর এবং শিবনরেশ বাপরোলা এলাকার বাসিন্দা। লক্ষ্মী দেবী জহাঙ্গীরপুরীর বাসিন্দা। রণধীর চালকের আসনে ছিলেন। শিবনরেশ এবং লক্ষ্মী পিছনে আসনে ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গা়ড়ির ভিতর থেকে মদের বোতল এবং গ্লাস মিলেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। শিব নরেশ এবং লক্ষ্মীর বমি করারও চিহ্ন মিলেছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ঘটনার দিন গাড়ির সামনে আসনে রণধীর ছাড়াও আরও এক জন ছিলেন। তাঁকেই ‘বাবা’র বেশে দেখা গিয়েছে। রণধীর এবং শিবনরেশ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁরা জমি-বাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু এই দু’জনের পরিবার লক্ষ্মীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানতেন না। সূত্রের খবর, লক্ষ্মীর দু’টি বিয়ে। এক স্বামী বিহারে থাকেন। অন্য জন দিল্লিতে। কিন্তু লক্ষ্মীর সঙ্গে রণধীর এবং শিবনরেশের কী সম্পর্ক ছিল, তা-ও বেশ সন্দেহজনক বলে জানিয়েছেন এক তদন্তকারী আধিকারিক।