আয়কর হানায় উদ্ধার হওয়া সোনার গয়নার কিছু অংশ। ছবি: সংগৃহীত।
ঘরের দেওয়াল, সিলিং এবং মেঝের নীচ থেকে উদ্ধার হল সোনা। শুধু তা-ই নয়, দেওয়ালে লুকনো গোপন চেম্বারে মিলল কোটি কোটি টাকার গয়নাও। রাজস্থানে এক খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে হানা দিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যান আয়কর আধিকারিকেরা। তবে বাড়ির আরও অনেক জায়গায় সোনা এবং টাকা লুকনো আছে বলে সন্দেহ আধিকারিকদের।
জয়পুরের এই তল্লাশি ২০১৮ সালের বলিউড ছবি অজয় দেবগন অভিনীত ‘রেড’-এর এক দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। সেখানেও একটি দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, লখনউয়ের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রামেশ্বর রাজাজি সিংহের (সৌরভ শুক্ল) বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যান রাজস্ব দফতরের দোর্দণ্ড আধিকারিক অময় পট্টনায়েক (অজয় দেবগন)। তাঁর সন্দেহ হয় দেওয়ালে গোপন কুঠুরিতে কালো টাকা লুকনো থাকতে পারে। তার পর ঘরের দেওয়াল ভাঙা হয়। আর দেওয়াল ভাঙতেই বেরিয়ে আসে থরে থরে সাজানো টাকা। রাজস্থানের খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতেও তল্লাশিতে ‘রেড’ ছবির হুবহু সেই দৃশ্য যেন এসেছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, উদ্ধার হওয়া সোনা এবং গয়নার পরিমাণ এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে নগদ ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে।
সূত্রের খবর, তিন দিন ধরে তল্লাশি অভিযান চলছে খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থার ওই কর্ণধারের বাড়ি-সহ ৩৩টি ঠিকানায়। শুধু জয়পুরই নয়, শ্রীগঙ্গানগর, কোটা, কারাউলি, হিন্দন এবং মুম্বইয়েও একইসঙ্গে তল্লাশি অভিযান জারি। সূত্রের খবর, খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশির সময় আধিকারিকদের সন্দেহ হয় ঘরের দেওয়াল দেখে। তার পরই সেই দেওয়াল ভাঙার কাজ শুরু হয়। দেওয়াল ভাঙতেই গোপন চেম্বার লক্ষ করেন আয়কর আধিকারিকেরা। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার হয়। শুধু দেওয়ালই নয়, ঘরের ফলস সিলিংয়ের ভিতর থেকেও সোনা উদ্ধার হয়েছে। এমনকি মেঝে খুঁড়েও সোনা বার করা হয়েছে। আরও একটি গোপন চেম্বারের হদিস মিলেছে, সেখানে কয়েক কোটি টাকার গয়না পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি।
সূত্রের খবর, বুধবার থেকে তল্লাশি অভিযান চলছে। ৩৩টি ঠিকানায় সেই অভিযান জারি। শুধুমাত্র জয়পুরেই ২৬টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। মূলত স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার প্রস্তুত করে এই সংস্থা। সূত্রের খবর, ১০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে এই সংস্থা। সেই টাকা বিলাসবহুল হোটেলে বিনিয়োগ করা হয়েছে। জয়পুরের দু’টি বিলাসবহুল হোটেলেও তল্লাশি চালান আয়কর আধিকারিকেরা। প্রথম দু’দিনের তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তৃতীয় দিনের তল্লাশিতে সোনা এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ১০টি ব্যাঙ্ক লকারেরও হদিস মিলেছে।