এই ধরনের খবরের ক্ষেত্রে আসল ছবি প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে। — প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
বাড়ির অদূরে খেলছিল সাত বছরের শিশুকন্যা। সেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এক ব্যক্তি। যৌনাঙ্গে ঢোকানো হয় রড। এক মাস আগের নৃশংস ওই ঘটনায় এ বার দোষীকে ফাঁসির সাজা শোনাল গুজরাতের আদালত।
শনিবার অপরাধের ৪৪ দিনের মধ্যে ওই মামলায় রায় ঘোষণা করেছে গুজরাতের রাজকোটের বিশেষ পকসো আদালত। আসামি রামসিংহ দুদভাকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়েছে। বিচারক ভিএ রানা জানিয়েছেন, এই অপরাধ বিরলের মধ্যে বিরলতম। রায় ঘোষণার পরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভি। তিনি বলেন, ‘‘সমগ্র বিচারব্যবস্থাকে অভিনন্দন। গুজরাত সরকার প্রতিটি কন্যার নিরাপত্তার জন্য দৃঢ় ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় আমরা জ়িরো টলারেন্স নীতি মেনে কাজ করি। এটি কেবল একটি মামলা নয়, বরং এটি একটি জোরালো বার্তা যে, যারাই আমাদের মেয়েদের উপর হাত তুলবে, তাদের রেয়াত করা হবে না।’’
ধর্ষক রামসিংহ মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুরের বাসিন্দা। তিন সন্তানও রয়েছে তাঁর। গত ৪ ডিসেম্বর গুজরাতের আটকোট শহরের কাছে কানপার গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। সাত বছরের ওই শিশুকন্যা সে সময় ভাইবোনদের সঙ্গে খেলছিল। অভিযোগ, তখনই তাকে অপহরণ করেন রামসিংহ। তার পর বাইকে করে তাকে একটি ঝোপে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটির যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তার পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই ফেলে চম্পট দেন রামসিংহ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ৮ ডিসেম্বর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা (পকসো) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক প্রাসঙ্গিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হন রামসিংহ।
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের সময় লোহার রড নিয়ে পুলিশের উপরেও চড়াও হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ গুলি চালালে অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে। ১৯ ডিসেম্বর ওই মামলায় চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। অবশেষে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি আদালত রামসিংহকে দোষী সাব্যস্ত করে।