—প্রতীকী ছবি।
বিবাহ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলিতে নিজেকে পুলিশ হিসাবে পরিচয় দিতেন। শুধু তা-ই নয়, সেই পরিচয় দিয়ে মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন। তার পর ছলে-কৌশলে তাঁদের আস্থা অর্জন করতেন। সেই সব মহিলার কাছ থেকে তার পর নানা অছিলায় টাকা নিতেন। টাকা হাতানোর পরই বেপাত্তা হয়ে যেতেন। ফোন করেও তাঁর কোনও হদিস পাওয়া যেত না। প্রতারণার অভিযোগে সম্প্রতি ওই যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ।
ঘটনাটি গুজরাতের অহমদাবাদের। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম হিমাংশু ওরফে রকি পাঞ্চাল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে সমস্ত ভুয়ো নথি বানিয়েছিলেন রকি। তার পর সেগুলি বিবাহ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে মহিলাদের ফাঁদে ফেলতেন বলে অভিযোগ। অহমদাবাদের বাসিন্দা হলেও রকি থাকতেন উদয়পুরে। অহমদাবাদ পুলিশের অপরাধদমন শাখার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নামী বিবাহ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলিতে নিজের ভুয়ো প্রোফাইল দিয়েছিলেন রকি। নিজেকে সেখানে গুজরাত পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর হিসাবে পরিচয় দিতেন। এআই দিয়ে পুলিশের উর্দিপরা ছবি বানিয়ে সেটিকে প্রোফাইল ছবি হিসাবে ব্যবহার করতেন রকি।
অভিযোগ, ভুয়ো সরকারি পরিচয়পত্র, নিয়োগপত্র-সহ বেশ কিছু নথি বানিয়েছিলেন রকি। যে সব মহিলার সঙ্গে পরিচয় হত, তাঁরা যাতে কোনও ভাবে সন্দেহ করতে না পারেন, সেই জন্য পাকাপাকি ভাবে সব বন্দোবস্ত করে রেখেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বিবাহ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলি ছাড়া সমাজমাধ্যমেও মহিলাদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলতেন। তার পর ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেন। ধীরে ধীরে আস্থা অর্জনের পর তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। সম্প্রতি অহমদাবাদের দুই মহিলা আলাদা আলাদা ভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হতেই জানা গিয়েছে, চার রাজ্যে ২১ জন মহিলার সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণার কাজ চালিয়েছিলেন অভিযুক্ত যুবক।