Chhattisgarh Couple's Death

‘ও আমাদের জীবন ছিল’! পুত্রের মৃত্যুশোকে বিহ্বল দম্পতির দেহ উদ্ধার, পাশে পড়ে চার পাতার চিঠি, কী লেখা তাতে?

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫১
Share:

কৃষ্ণ পটেল এবং তাঁর স্ত্রী রমাবাই। ছবি: সংগৃহীত।

একই শাড়ির ফাঁসে পাড়ার নিমগাছটায় ঝুলছিল দু’জনের দেহ। সোমবার সকালে এমন দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিলেন ছত্তীসগঢ়ের ধারদেই গ্রামের বাসিন্দারা। ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। পাড়ার লোকেরা ছুটে আসেন। কিন্তু কিছু করার ছিল না। কেউ বুক চাপড়ে কাঁদলেন। কেউ থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। কারণ ওই দম্পতি যে এত বড় একটা কাণ্ড ঘটিয়ে বসবেন কেউ কল্পনা করতে পারেননি বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

Advertisement

মৃত দম্পতি হলেন কৃষ্ণ পটেল (৪৮) এবং রমাবাই (৪৭)। তাঁদের দেহের পাশ থেকে চার পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাতে লেখা, তাঁরা সজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। তাঁদের মৃত্যুর পর যেন কোনও রকম শোকপালন করা না হয়। আত্মীয়দের উদ্দেশে এমনই লিখেছেন দম্পতি। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা আরও লেখেন, মনের যে যন্ত্রণা, কষ্ট— তা থেকে নিজেদের মুক্ত করার সময় এসে গিয়েছে। আর তাঁরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে পারছেন না। তাই সকলকে বিদায় জানাচ্ছেন। গ্রামেরই একটি নিমগাছ থেকে তার পর দু’জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

চিঠিতে আরও লেখা, ‘‘আদিত্য আমাদের জীবন ছিল। ও আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমাদের জীবন শূন্য হয়ে পড়েছে।’’ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দম্পতি অত্যন্ত অমায়িক ছিলেন। সকলের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। খুব হাসিখুশি পরিবার ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে তাঁদের সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পুত্র আদিত্যের। গ্রামেরই একটি মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন দম্পতি। আদিত্যকেও যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি যেতে ইতস্তত করেন। যদিও পরে যান। কিন্তু মন্দিরে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আদিত্যের। গ্রামবাসীদের দাবি, তার পর থেকেই নিজেদের ঘরবন্দি করে ফেলেছিলেন কৃষ্ণ এবং রমাবাই। কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলতেন না। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে দম্পতি একটি ভিডিয়োও রেকর্ড করেন। সেখানে তাঁদের আইনজীবীর উদ্দেশে জানান, আদিত্যের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণের কোনও টাকা পাওয়ার বিষয় থাকে, তা হলে সেগুলি যেন তিনি দেখে নেন এবং তাঁর দুই সন্তান কুলভরা এবং জলবহরার হাতে সেই অর্থ তুলে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement