আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাসপাতাল। সোমবার রাতে এই হাসপাতালে হামলা করে পাকিস্তান। ছবি: রয়টার্স।
কাবুলের হাসপাতালে বর্বরোচিত এবং কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার রাতের ওই হামলার এই ভাষাতেই নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, সোমবার রাতে পাকিস্তান যা করেছে, তা এক নৃশংস গণহত্যা। এখন সেই গণহত্যাকে ‘সামরিক অভিযান’ বলে চালানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। কিন্তু যে হামলায় এত জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়, সেটিকে কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ বলে দেখানো যায় না।
সোমবার রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালে হামলা চালায় পাকিস্তান। হাসপাতালের উপর বোমা ফেলে পাকিস্তানি সেনা। আকাশপথে ওই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন প্রায় ২৫০ জন। নিহত এবং জখমদের মধ্যে বেশির ভাগই হাসপাতালের রোগী। এই হামলাকে পাকিস্তানের ‘আগ্রাসী’ মনোভাব বলে বর্ণনা করেছে ভারত। হাসপাতালে এ ভাবে হামলা করে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপর উপর আঘাত করেছে পাকিস্তান। বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই হামলা শুধু আফগানিস্তানের উপর নয়, গোটা এলাকার শান্তি এবং স্থিতাবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এটি পাকিস্তানের ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণকেই ফের এক বার প্রকট করল বলে মনে করছে দিল্লি। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই অন্য দেশের উপর হামলা করছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন যে এই হামলা হয়েছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভারত। বলা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপর ইচ্ছাকৃত ভাবে এই হামলাকে কোনও যুক্তিতেই সমর্থন করা যায় না।
কাবুলের ওই হাসপাতালটিতে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা চলে। সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানান ফিতরাত।