US-Iran Conflict

৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল কিনতে পারবে ভারত! ঘোষণা আমেরিকার, তবে ছাড় প্রযোজ্য কেবল একটি ক্ষেত্রের জন্যই

আমেরিকা মনে করে তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। তাই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কো থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করা ভারতের উপর চাপ তৈরি করে হোয়াইট হাউস। নয়াদিল্লির উপর আরোপিত হয় অতিরিক্ত শুল্ক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১০:১৪
Share:

(বাঁ দিক থেকে) নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

বিশ্বে অশোধিত তেলের বাজারকে চাঙ্গা করতে রুশ-নীতি নমনীয় করার ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ছাড় দিল ভারতকে। তবে শর্ত একটিই। তা হল, এই ছাড় কেবল সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রে আটকে থাকা তেল কিনতে পারবে ভারত। বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট।

Advertisement

আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বেসেন্ট লিখেছেন, “ভারত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। ইরানের জন্য বিশ্বের জ্বালানির বাজার রুদ্ধ হতে চলেছে। তাই ওই চাপ কমানোর জন্যই এই সাময়িক উদ্যোগ।” আমেরিকা মনে করছে, এই সাময়িক ছাড়ের কারণে রাশিয়া খুব বেশি লাভবান হবে না।

প্রসঙ্গত, আমেরিকা মনে করে তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। তাই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করায় ভারতের উপর চাপ তৈরি করে হোয়াইট হাউস। এই কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এই যুক্তিতে ভারতের উপর যে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা-ও প্রত্যাহার করে নেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। বরং ভারতের তরফে এই বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থই ভারতের বাণিজ্যনীতির প্রধান নির্ধারক। তেল কেনার ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখা হবে। কোনও একটি দেশের কাছ থেকে তেল কেনার বাধ্যবাধকতা নেই নয়াদিল্লির।

Advertisement

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। প্রতি দিন গোটা বিশ্বে রফতানিযোগ্য তেলের ২০ শতাংশ যায় এই হরমুজ় প্রণালী ধরে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় প্রণালীর দুই ধারে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে থমকে রয়েছে ভারতের ৩৭টি জাহাজও। এই পরিস্থিতিতে তেল আমদানির জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে ভারতকেও।

সংবাদসংস্থা রয়টার্স ছ’টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ভারতীয় সংস্থাগুলি লক্ষ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কিনছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুরোধ করে ভারত।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement