India- America

ট্রাম্পের কুকথায় নরমপন্থা ছাড়ার ভাবনা নয়াদিল্লির

কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, শুল্ককে শাস্তি হিসেবে ব্যবহার করা, বার বার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর দাবি, ভারতীয় অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে দেগে দেওয়া, ভারত-বিরোধী বয়ানের জন্য পরিচিত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সখ্য — একের পর এক বিষয় নিয়ে লাগাতার অপমান করে চলেছেন ট্রাম্প।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৬
Share:

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ভারতের কূটনীতির চিরাচরিত কৌশল— প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিরতি, নৈঃশব্দ এবং ধৈর্য। কিন্তু এই মুহূর্তে এ সব অচল ওয়াশিংটন নীতির প্রশ্নে। কারণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিরতি, নৈঃশব্দ, ধৈর্যের মতো বিষয়গুলি নেহাতই দুর্বলতা। শুধু তাই নয়, অপমান করার ছাড়পত্রও বটে। সম্প্রতি ‘নরককুণ্ড’ ভাষ্যের পর নয়াদিল্লির একটি অংশ ঘরোয়া ভাবে এমনটাই মনেকরছে। তবে আমেরিকার নীতি প্রণয়নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরই শেষ কথা। সেখানকার সিলমোহর ছাড়া এগোনো যে সম্ভব নয়, সে কথাও বিদেশমন্ত্রক জানে।

কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, শুল্ককে শাস্তি হিসেবে ব্যবহার করা, বার বার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর দাবি, ভারতীয় অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে দেগে দেওয়া, ভারত-বিরোধী বয়ানের জন্য পরিচিত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সখ্য — একের পর এক বিষয় নিয়ে লাগাতার অপমান করে চলেছেন ট্রাম্প। ভারত থেকে ‘ল্যাপটপ হাতে গুন্ডারা’ গিয়ে নবম মাসে শিশুর জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব আদায় করে নেয়— এমন কথা রি-পোস্ট করেছেন তিনি।

নয়াদিল্লির বক্তব্য, ২০২৮-এর পর অর্থাৎ ট্রাম্প জমানা শেষ হলে আমেরিকার ভারত সম্পর্কে নীতি কী হবে তা অজানা। ভাল এবং মন্দ দুই-ই হতে পারে। এখনও পর্যন্ত সে কথা ভেবেই ট্রাম্পের বুলি হজম করা হচ্ছে। কিন্তু ঘরোয়া রাজনীতিতে বার বার কংগ্রেস এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই নিয়ে নিশানা করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। অস্বস্তি বাড়ছে শাসকের।

আপাতত তাই বেশ কিছু বিষয়কে মাথায় রাখছে নয়াদিল্লি। প্রথমত, মোদী এবং ট্রাম্পের রসায়নের বিষয়টি গত এক বছরে একবারও উচ্চারিত হয়নি বিদেশ মন্ত্রকের কূটনৈতিক ভাষ্যে। ‘হাউডি মোদী’ এবং ‘নমস্তে ট্রাম্প’ বয়ানকে একেবারেই পরিহার করা হয়েছে। বরং আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। আমেরিকান কংগ্রেসে ভারত সম্পর্কে দ্বিদলীয় সমর্থন হয়তো কমেছে, কিন্তু পুরোপুরি উবে যায়নি। পরবর্তী প্রজন্মের আমেরিকার রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সংযোগ, গভর্নর, বিশ্ববিদ্যালয়, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, কর্পোরেট দুনিয়া এবং সে দেশের শক্তিশালী প্রায় ৫৫ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূতের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছনোর কথা ভাবা হচ্ছে। আগামী মাসে বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো ভারতে পৌঁছলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি এবং স্পষ্ট কথা বলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে নয়াদিল্লি। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের অপমানের সরাসরি জবাব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এক বছরে প্রায় ১৫ বার ভারতকে অপমান করেছেন ট্রাম্প। এ কথা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে যে ভারতে রাজনৈতিক পরিসর ওয়াশিংটনের জন্য কমেযাচ্ছে। তৃতীয়ত, ট্রাম্পের একটি নির্দিষ্ট নকশা রয়েছে। প্রথমে তিনি প্রকাশ্যে কটূক্তি করছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নাম করে ব্যক্তিগত উদারতা দেখানোর চেষ্টা করছেন। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি ‘নরককুণ্ড’ ভাষ্যের পর ভারত ট্রাম্প বা আমেরিকার নাম করেনি ঠিকই এবং যথেষ্ট সময় নিয়েছে উত্তর দিতে। কিন্তু যথেষ্ট কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি বিদেশ মন্ত্রকের। বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য ‘অবশ্যই তথ্যহীন, অন্যায্য এবং কুরুচির পরিচায়ক’। এ ক্ষেত্রে আমেরিকাকে বোঝানোর রাস্তায় না হেঁটে, ঠান্ডা মাথায় কড়া উত্তরদিয়েছে নয়াদিল্লি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন