ইরানে বিক্ষোভ চলছেই। ছবি: রয়টার্স।
মোবাইল টাওয়ারের নীচে দাঁড়িয়ে উৎসুক দৃষ্টিতে ঠায় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন কয়েক জন যুবক। ইরানের নানা জায়গায় এখন টাওয়ারকেন্দ্রিক এই জটলা দেখা যাচ্ছে! কারণ গণবিক্ষোভে রাশ টানতে এখনও ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হয়নি ইরানে। তাই ইন্টারনেট কিংবা ফোনের নেটওয়ার্কের জন্য হাপিত্যেশ করছেন মানুষ। ইন্টারনেট না-থাকায় সবচেয়ে বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। কারণ ভারতে থাকা উদ্বিগ্ন পরিবার-পরিজনেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তাঁরা।
ইরানে ন’হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, যাঁদের অধিকাংশই পড়ুয়া। প্রতি বছর জম্মু ও কাশ্মীরের বহু পড়ুয়া ইরানের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ভর্তি হন। তাঁদের সংখ্যা প্রায় দু’হাজার। কাশ্মীরের এই পড়ুয়ারা মূলত থাকেন ইরাক সীমান্তবর্তী শহরগুলিতে। সীমান্তঘেঁষা টাওয়ারগুলির সামনে এই প়ড়ুয়াদের আনাগোনা বেড়েছে। কোনও রকমে যৎসামান্য নেটওয়ার্ক পেলেই বাড়িতে খবর পাঠানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা। বেশি ক্ষণ বাইরে থাকারও উপায়ও নেই। প্রতি দিন রাত ৮টা বাজলেই শুরু হচ্ছে কার্ফু। দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট।
তবে এমন নয় যে, তাঁদের সবাই ইরান ছেড়ে ভারতে ফিরতে চাইছেন। কারণ পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে যতটা দাবি করা হচ্ছে, ইরানে পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। তাঁরা মেডিক্যাল কলেজগুলিতে নিরাপদেই রয়েছেন বলে দাবি তাঁদের। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস-এর তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া জ়োহা সইদা কাশ্মীরের বাসিন্দা। তাঁর কথায়, “এখানে ঝামেলা নেই। পুলিশ সব সময় এলাকায় টহল দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন।”
ইরানে গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরেই ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পঠনপাঠন স্থগিত রাখা হয়েছে। পড়়ুয়াদের অনেকেই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। শনিবার মধ্যরাতে ইরানে থাকা ভারতীয়দের নিয়ে দু’টি বাণিজ্যিক বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। ওই দুই বিমানে বেশ কয়েক জন পড়়ুয়া ফিরেছেন।
জম্মু ও কাশ্মীর অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ইরানে থাকা পড়ুয়াদের জন্য হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। এই গ্রুপের মাধ্যমে ওই পড়ুয়াদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফেও ওই পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রথমে ইরানে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধার করে ভারতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে ভারতীয় দূতাবাস পুরনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ পথে নামলেও ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নেয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিক্ষোভ দেখান হাজারো মানুষ। আমেরিকা এই গণবিক্ষোভকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বিদ্রোহীদের দমাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করে। নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।