প্রতীকী ছবি
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বেনজির গতি। মাত্র তিন দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা আরও এক লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লক্ষের বেশি। কোভিড-১৯ রোগ দেশে যে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে প্রায় প্রতিদিনই আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা রেকর্ড গড়ছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪০,৪২৫ জন নতুন করে কোভিড-১৯ রোগাক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার নিরিখে যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মারা গিয়েছেন ৬৮১ জন। প্রতি দিন যে সংখ্যক মানুষের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে যত শতাংশের রিপোর্ট পজ়িটিভ আসছে, সেটাই ‘পজ়িটিভ রেট’ বা সংক্রমণের হার। এই হার গত কয়েকদিন ১০ শতাংশের আশেপাশে ছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৮ শতাংশ।
করোনা সংক্রমণ নিয়ে দেশ জুড়ে আতঙ্কের মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে কোভিড-মৃত্যুর হার ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে’। মন্ত্রকের হিসেবে অনুযায়ী, এই প্রথম মৃত্যুর হার ২.৫ শতাংশের নীচে নামল। স্বাস্থ্য মন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমানে দেশে করোনায় মৃত্যু হার ২.৪৯ শতাংশ। যা কিনা বিশ্বে অন্য দেশগুলির তুলনায় মৃত্যুর হারে নীচের দিকে রয়েছে। মোট আক্রান্তের ৬২ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ৬৬৪ জন করোনা-আক্রান্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলিকে আরও করোনা পরীক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং আইসিএমআর। রাজ্যগুলিকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব প্রীতি সুদান এবং আইসিএমআর-এর ডিজি বলরাম ভার্গব বলেছেন, দ্রুত আরও করোনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে। সে জন্য আরও ল্যাবরেটরিকে কোভিড পরীক্ষার ছাড়পত্র দেওয়া হোক এবং যে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেগুলির পরিকাঠামো আরও বৃদ্ধি করতে হবে। জেলা হাসপাতালগুলিতে করোনা পরীক্ষার সুবিধা আরও বাড়াতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।
আরও পড়ুন: ভূরি ভূরি মামলা থাকা সত্ত্বেও বার বার জামিন কেন বিকাশ দুবেকে, আদালতে প্রশ্নের মুখে যোগী
প্রথম থেকেই দেশে করোনা সংক্রমণের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে সাড়ে ৯ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই সময় মারা গিয়েছেন ২৫৮ জন। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আসলাম শেখ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দিন কয়েক আগে কেরল সরকার বলেছিল, সে রাজ্যের কিছু জায়গায গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। যদিও কেন্দ্র তা মানতে নারাজ।