রোহিত-ভূমে কেন্দ্রকে তুলোধোনা কানহাইয়ার

রোহিত ভেমুলার লড়াইয়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন কানহাইয়া কুমার। হায়দরাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের সুরে মিশে গেল জেএনইউ। জেএনইউয়ের ধাক্কায় কিছুটা থিতিয়ে পড়া হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে গতি আনতেই আজ দক্ষিণে উড়ে গেলেন ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৬ ০১:২৩
Share:

আশীর্বাদ চাই। রোহিত ভেমুলার মায়ের কাছে কানহাইয়া। বুধবার হায়দরাবাদে।—পিটিআই

রোহিত ভেমুলার লড়াইয়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন কানহাইয়া কুমার। হায়দরাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের সুরে মিশে গেল জেএনইউ। জেএনইউয়ের ধাক্কায় কিছুটা থিতিয়ে পড়া হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে গতি আনতেই আজ দক্ষিণে উড়ে গেলেন ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমার।

Advertisement

টানা ছুটিতে থাকার পরে গত কাল কাজে যোগ দিয়ে ছাত্রদের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় উপাচার্য আপ্পা রাওকে। ঘেরাও করে রাখা হয় তাঁকে। ভাঙচুরও করা হয় তাঁর দফতর। এরই মধ্যে আজ রোহিত ভেমুলার আন্দোলনের দাবিগুলির পাশে দাঁড়াতে হায়দরাবাদ পৌঁছন জেএনইউয়ের ছাত্রনেতা কানহাইয়া। পূর্বঘোষণা মতোই নিরাপত্তার কারণে তাঁকে এ দিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই ঢুকতে দেননি কর্তৃপক্ষ। ফলে মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়েই বক্তব্য রাখেন কানহাইয়া। যে বিতর্কের কারণে তাঁর ধূমকেতুর মতো উত্থান, সেই বিতর্ক তৈরি করার জন্য কেন্দ্রের শাসক দলকেই দায়ী করেন। কানহাইয়ার কথায়, ‘‘হায়দরাবাদ আন্দোলনে অস্বস্তিতে পড়ে যাওয়া কেন্দ্র পরিস্থিতি সামলাতেই পরিকল্পিত ভাবে জেএনইউ-বির্তককে এত বড় আকারে তুলে নিয়ে গিয়েছে। সরকারের আসল লক্ষ্য ছিল, জেএনইউ-বির্তকের আঁচে যাতে রোহিতের আত্মহত্যার ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।’’

অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলিত পড়ুয়াদের উপরে অত্যাচার বন্ধ করতে ‘রোহিত আইন’ আনার দাবিতেও এ দিন সরব হন কানহাইয়া। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মানসিক নির্যাতনের কারণেই গত জানুয়ারি মাসে রোহিত আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। আত্মহত্যায় প্ররোচনার দেওয়ার অভিযোগে ঘটনার পর থেকে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী বন্দারু দত্তাত্রেয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে সরব রয়েছেন রোহিতের পরিবারের লোকজন ও তাঁর বন্ধুরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আন্দোলনের তীব্রতা এখন কিছুটা কমে এসেছে। কানহাইয়া বলেন, ‘‘রোহিতদের আন্দোলন থেকে সকলের নজর ঘোরাতেই পরিকল্পিত ভাবে জেএনইউ-কাণ্ডকে এত বড় আকারে তুলে ধরেছে বিজেপি। কিন্তু ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরা সকলে এক। আর তাই জেল থেকে ছাড়া পেতেই আমি ঠিক করি হায়দরাবাদে আসব।’’ রাতে রোহিতের মা ও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন কানহাইয়া।

Advertisement

দিল্লি পুলিশ এ দিকে কানহাইয়ার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রশান্তকুমার উমরাও নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কানহাইয়া যে মন্তব্য করেছিলেন, তাতে দেশের একতা ও অখণ্ডতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই মন্তব্য করে জামিনের শর্ত ভেঙেছেন কানহাইয়া। দিল্লি পুলিশ অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে। মামলাটি আজ আদালতে উঠলে দিল্লি পুলিশের আইনজীবী শৈলেন্দ্র বব্বর জানান, ‘‘কানহাইয়া শর্ত ভেঙেছেন কি না সেটা খতিয়ে না দেখে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement