Mahua Moitra on TMC Protest in Delhi

‘চ্যাংদোলা করে তুলে এনেছে’! পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর দিল্লির থানা থেকেই ‘লাইভ’ মহুয়ার, ইডিকে তোপ

মহুয়া যখন লাইভ করছিলেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন শতাব্দী রায়, প্রতিমা মণ্ডল, শর্মিলা সরকার, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, কীর্তি আজ়াদের মতো সাংসদেরা। শাহের দফতরের সামনে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০৯
Share:

(বাঁ দিকে) ফেসবুক লাইভে সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অমিত শাহের দফতরের সামনে তাঁর সঙ্গে দিল্লি পুলিশের ধস্তাধস্তি (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে ধস্তাধস্তির পর বিক্ষোভরত তৃণমূল সাংসদের শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই ফেসবুক লাইভ করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শাহ, দিল্লির পুলিশ, বিজেপি এবং ই়ডিকে তুলোধনা করেছেন তিনি। দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে হস্তক্ষেপ করেছে পুলিশ। টেনে-হিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে তৃণমূল সাংসদদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Advertisement

মহুয়া যখন লাইভ করছিলেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন শতাব্দী রায়, প্রতিমা মণ্ডল, শর্মিলা সরকার, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, কীর্তি আজ়াদের মতো সাংসদেরা। শাহের দফতরের সামনে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। কলকাতায় রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর এবং তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানার বিরুদ্ধে রাজধানীতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তাঁরা। ঘণ্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়।

ইডির অভিযানের বিরোধিতা করে লাইভে মহুয়া বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ দেখেছে কী ভাবে শাহের নির্লজ্জ পুলিশ সাত-আট বছরের পুরনো কয়লা কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে, সেই অজুহাত দিয়ে ইডি-কে প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের অফিসে ঢুকিয়েছে। তৃণমূলের রাজনৈতিক তথ্য, নির্বাচনী তথ্য, সমীক্ষা, প্রার্থিতালিকা চুরি করার জন্য ইডি-কে পাঠানো হয়েছিল। কয়লা কেলেঙ্কারির কিছু থাকলে সাত বছর ধরে কি তারা ঘুমোচ্ছিল? এসআইআর চলছে, সামনে ভোট, এখন ইডি জেগে উঠল? সাত বছরের তথ্য কি এখন প্রতীকের কম্পিউটার বা ফাইলে পাওয়া যাবে?’’

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাক দফতর এবং প্রতীকের বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের রাজনৈতিক সম্পত্তিকে রক্ষা করেছেন বলে দাবি করেন মহুয়া। ‘বাঘের বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করেছেন দলনেত্রীকে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলাম। সেখানে অমিত শাহের পুলিশ গিয়ে আমাদের টেনে-হিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে তুলে এনেছে। প্রতি বার বিজেপি এটাই করে। বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে।’’

উল্লেখ্য, তৃণমূলের ধর্না চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সাংসদদের ধস্তাধস্তি প্রকাশ্যেই দেখা গিয়েছে। শতাব্দী এবং প্রতিমাকে কার্যত টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বাপিকে পাঁজাকোলা করে তুলে দেয় পুলিশ। সাকেতকেও টানা হয়। ধস্তাধস্তির সময় পুলিশের উদ্দেশে ডেরেককে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমাদের সাংসদদের গায়ে হাত দেবেন না।’’ এই ঘটনার পর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন। লিখেছেন, ‘‘গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হয়। অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নির্বাচনকে কাজে লাগানো হয়। বিক্ষোভকারীদের জেলে পাঠান। ধর্ষকদের জামিন দিন। এটি বিজেপির নতুন ভারতের নমুনা। দেশের বাকি অংশ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেও, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিরোধ করবে।’’ শুক্রবারই ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে পথে নামছেন মমতা। যাদবপুর থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত তিনি মিছিল করবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement