Advertisement
E-Paper

শাহের দফতরের সামনে তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের বচসা, ধস্তাধস্তি, আইপ্যাক-অভিযানের প্রতিবাদে চলছিল ধর্না-বিক্ষোভ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে অশান্তির পরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘এটি বিজেপির নতুন ভারতের নমুনা। দেশের বাকি অংশ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেও, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিরোধ করবে।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৮
অমিত শাহের দফতরের সামনে তৃণণূল সাংসদদের বিক্ষোভ।

অমিত শাহের দফতরের সামনে তৃণণূল সাংসদদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে ইডির হানার প্রতিবাদ এ বার দিল্লিতে। শুক্রবার সকাল ৮টার কিছু পরে তৃণমূলের আট জন সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঘণ্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পরে পুলিশ তাঁদের জোর করে তোলার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, শর্মিলা সরকারের মতো তৃণমূলের মোট আট সাংসদ হাজির ছিলেন প্রতিবাদ-বিক্ষোভে। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচনী কৌশল ‘চুরি’ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বৃহস্পতিবার প্রতীকের বাড়িতে ইডির অভিযান চলাকালীন একই অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্না-বিক্ষোভ চলাকালীনই ‘সক্রিয়’ হতে দেখা যায় দিল্লি পুলিশকে।

ধর্না চলাকালীন টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় শতাব্দী এবং প্রতিমাকে। বাপিকে কার্যত পাঁজাকোলা করে সরিয়ে দেয় পুলিশ। সাকেতকেও টেনে নিয়ে ভ্যানে তোলে পুলিশ। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় পার্লামেন্ট স্ট্রিট (সংসদ মার্গ) থানায়। ধস্তাধস্তির সময় পুলিশের উদ্দেশে ডেরেককে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমাদের সাংসদদের গায়ে হাত দেবেন না।’’

শাহের দফতরের সামনে অশান্তির পরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হয়। অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নির্বাচনকে কাজে লাগানো হয়। বিক্ষোভকারীদের জেলে পাঠান। ধর্ষকদের জামিন দিন। এটি বিজেপির নতুন ভারতের নমুনা। দেশের বাকি অংশ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেও, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিরোধ করবে।’’অন্য দিকে, তৃণমূলের দলীয় এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, ‘‘এটি কী ধরনের ঔদ্ধত্ব অমিত শাহ? আপনি কি এখন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উপর আক্রমণ করতে আপনার দিল্লি পুলিশকে ব্যবহার করছেন? আপনার ভারতে কি এ ভাবেই ভিন্নমত দমন করা হয়?’’ বস্তুত,আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েছে তৃণমূল। শুক্রবার পথে নামতে চলেছেন স্বয়ং মমতা। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী যখন আইপ্যাকের দফতরে, তখনই হাজরা মোড়ে দলবল নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তার পর দলের তরফে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে থেকে প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রতিবাদী মিছিলের নির্দেশ দিয়েছিল তৃণমূল। সেই অনুযায়ী, দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের বিক্ষোভ মিছিলে দেখা যায়। শুক্রবার আইপ্যাক অভিযানের বিরুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে মিছিল হবে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত। দুপুর ২টো থেকে মিছিলে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী। এইটবি থেকে যাদবপুর থানা হয়ে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড ধরবে সেই মিছিল। সেখান থেকে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি হয়ে হাজরা মোড়ে পৌঁছোবেন মমতারা। তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বকে মিছিলের প্রথম সারিতে দেখা যাবে শুক্রবার দুপুরে। আর আগেই উত্তেজনার পারদ চড়ল শাহের দফতরে তৃণমূল সাংসদদের বিক্ষোভে।

I-Pac TMC MP TMC Protest Pratik Jain ED Raids
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy